ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না সিইপিজেডের পোশাক কারখানাটির, বিভিন্ন ফ্লোরে এখনও জ্বলছে আগুন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ (সিইপিজেড) এলাকার যে পোশাক কারখানাটিতে আগুন লেগেছিল, সেই ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’-এর ভবনটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেনেন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ভবনটির আশপাশে নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম খালি জায়গা রাখা হয়নি। যার ফলে ভবনটির দুই পাশ দিয়ে আগুন নেভানোর সুযোগ ছিল না। এ কারণেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেনেন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “অগ্নিনিরাপত্তা সনদ পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটি কেবল আবেদন করেছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী এখনও পরিদর্শন করা হয়নি। তার আগেই দুর্ঘটনা ঘটেছে।”

এদিকে, দীর্ঘ সাড়ে ১৭ ঘণ্টা চেষ্টার পর কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বিকেল ৩টা পর্যন্ত তা পুরোপুরি নেভেনি। এখনও কারখানার ভবনটির বিভিন্ন ফ্লোরের ধ্বংসস্তূপের ভেতর আগুন জ্বলছে এবং কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। সিইপিজেডে ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. জাকির জানিয়েছেন, আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।

আগ্রাবাদ বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানিয়েছে, ২৫টি ইউনিটের দীর্ঘ চেষ্টার পর আজ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কারখানাটিতে আগুন লাগে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নেভেনি। কয়েকটি ফ্লোরে ধ্বংসস্তূপের ভেতর এখনও আগুন জ্বলছে। আগুন যাতে আর ছড়াতে না পারে, সে জন্য ক্রমাগত পানি ছিটানো হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জাকির বলেন, “আজ সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়নি এখনও। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে।”

তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। এছাড়া সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে আগুন লাগা ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অথচ আগের দিনও এই ভবনে এক হাজারের বেশি শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করেছেন।

সিইপিজেড কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক আশেক মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন জানান, ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ কারখানায় ১ হাজার ৫০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠে এবং শ্রমিকরা দ্রুত ভবনটি থেকে নেমে যান। আগুন প্রথমে ওপরের তলায় লাগার কারণে শ্রমিকরা দ্রুত এবং নিরাপদে বের হতে পেরেছেন। এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিইপিজেডের ওই কারখানাটির সাত তলায় আগুন লাগে এবং তা পর্যায়ক্রমে নয় তলা ভবনের নিচতলা পর্যন্ত পুরোটাই ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ফায়ার ইউনিট, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ কাজ করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামে ওই কারখানায় আগুন লাগে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, “আগুন লাগা প্রতিষ্ঠানটিতে তোয়ালেসহ হাসপাতালে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।”

ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানিয়েছে, আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসের বন্দর, আগ্রাবাদ, ইপিজেড, কালুরঘাট ও চন্দনপুরা স্টেশনের ২৫টি ইউনিট যুক্ত ছিল।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি: রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই কি একমাত্র পথ?

অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না সিইপিজেডের পোশাক কারখানাটির, বিভিন্ন ফ্লোরে এখনও জ্বলছে আগুন

আপডেট সময় : ০৪:০৭:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ (সিইপিজেড) এলাকার যে পোশাক কারখানাটিতে আগুন লেগেছিল, সেই ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’-এর ভবনটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেনেন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ভবনটির আশপাশে নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম খালি জায়গা রাখা হয়নি। যার ফলে ভবনটির দুই পাশ দিয়ে আগুন নেভানোর সুযোগ ছিল না। এ কারণেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেনেন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “অগ্নিনিরাপত্তা সনদ পাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটি কেবল আবেদন করেছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী এখনও পরিদর্শন করা হয়নি। তার আগেই দুর্ঘটনা ঘটেছে।”

এদিকে, দীর্ঘ সাড়ে ১৭ ঘণ্টা চেষ্টার পর কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বিকেল ৩টা পর্যন্ত তা পুরোপুরি নেভেনি। এখনও কারখানার ভবনটির বিভিন্ন ফ্লোরের ধ্বংসস্তূপের ভেতর আগুন জ্বলছে এবং কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। সিইপিজেডে ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. জাকির জানিয়েছেন, আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।

আগ্রাবাদ বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানিয়েছে, ২৫টি ইউনিটের দীর্ঘ চেষ্টার পর আজ শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কারখানাটিতে আগুন লাগে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নেভেনি। কয়েকটি ফ্লোরে ধ্বংসস্তূপের ভেতর এখনও আগুন জ্বলছে। আগুন যাতে আর ছড়াতে না পারে, সে জন্য ক্রমাগত পানি ছিটানো হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জাকির বলেন, “আজ সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়নি এখনও। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে।”

তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। এছাড়া সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে আগুন লাগা ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অথচ আগের দিনও এই ভবনে এক হাজারের বেশি শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করেছেন।

সিইপিজেড কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক আশেক মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন জানান, ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ কারখানায় ১ হাজার ৫০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠে এবং শ্রমিকরা দ্রুত ভবনটি থেকে নেমে যান। আগুন প্রথমে ওপরের তলায় লাগার কারণে শ্রমিকরা দ্রুত এবং নিরাপদে বের হতে পেরেছেন। এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিইপিজেডের ওই কারখানাটির সাত তলায় আগুন লাগে এবং তা পর্যায়ক্রমে নয় তলা ভবনের নিচতলা পর্যন্ত পুরোটাই ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ফায়ার ইউনিট, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ কাজ করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামে ওই কারখানায় আগুন লাগে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, “আগুন লাগা প্রতিষ্ঠানটিতে তোয়ালেসহ হাসপাতালে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।”

ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানিয়েছে, আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসের বন্দর, আগ্রাবাদ, ইপিজেড, কালুরঘাট ও চন্দনপুরা স্টেশনের ২৫টি ইউনিট যুক্ত ছিল।