ঢাকা ০৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইযাদি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বাস্তবতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। কাতারের সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রকাশ্যে যে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে জোর দিচ্ছে, তা আসলে তাদের বৃহত্তর লক্ষ্য আড়াল করার একটি কৌশল মাত্র।

ইযাদি বলেন, ‘তাদের বাস্তববাদী হওয়া প্রয়োজন; কেননা পৃথিবীর কোনো পারমাণবিক বিশেষজ্ঞই বলবেন না যে ৩.৬৫ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি—জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)—এর আওতায় ইরান বিস্তৃত পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে এই চুক্তি থেকে সরে আসে। তার মতে, ‘ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার সর্বোত্তম উপায় হলো একই ধরনের কোনো চুক্তিতে ফিরে যাওয়া।’ ইযাদি বলেন, আরেকটি জেসিপিওএ-ধাঁচের চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের অনীহা এটাই প্রমাণ করে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি হলো অন্যান্য লক্ষ্য অর্জনের একটি অজুহাত।

তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, দেশের সীমানা পরিবর্তন এবং সরকার পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

আপডেট সময় : ০৭:৫১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইযাদি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বাস্তবতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। কাতারের সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রকাশ্যে যে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে জোর দিচ্ছে, তা আসলে তাদের বৃহত্তর লক্ষ্য আড়াল করার একটি কৌশল মাত্র।

ইযাদি বলেন, ‘তাদের বাস্তববাদী হওয়া প্রয়োজন; কেননা পৃথিবীর কোনো পারমাণবিক বিশেষজ্ঞই বলবেন না যে ৩.৬৫ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি—জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)—এর আওতায় ইরান বিস্তৃত পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে এই চুক্তি থেকে সরে আসে। তার মতে, ‘ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার সর্বোত্তম উপায় হলো একই ধরনের কোনো চুক্তিতে ফিরে যাওয়া।’ ইযাদি বলেন, আরেকটি জেসিপিওএ-ধাঁচের চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের অনীহা এটাই প্রমাণ করে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি হলো অন্যান্য লক্ষ্য অর্জনের একটি অজুহাত।

তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, দেশের সীমানা পরিবর্তন এবং সরকার পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো।