ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

মগবাজারে ভাই-বোনের মৃত্যু: খাবার বিষক্রিয়ার সন্দেহ পুলিশের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মগবাজার ওয়্যারলেস মোড় এলাকায় একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো, আফরিদা চৌধুরী (১০) ও তার এক বছর বয়সী ভাই ইলহাম চৌধুরী। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য শিশু দুটির মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে ওয়্যারলেস মোড়ের একটি ভবনের নিচতলায় অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আফরিদা চৌধুরী বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী একটি তৈরি পোশাক কারখানার জিএম এবং মা সাইদা জাকাওয়াত আরা গৃহিণী। তারা মগবাজারের ওই এলাকায় বসবাস করতেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) আফরিদার জন্মদিন উপলক্ষে বাবা-মা দুই সন্তানকে নিয়ে একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন। এর কয়েক দিন পর শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাবার খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার ভোরে আফরিদা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় রাশমনো হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আফরিদার মরদেহ বাসায় আনার পর ছোট ভাই ইলহামও বমি শুরু করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে মগবাজার কমিউনিটি  হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

নিহত শিশুদের চাচা তৌহিদ আলম চৌধুরী জানান, জন্মদিনের খাবার থেকেই বিষক্রিয়া হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা এখন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন। প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মিয়া জানান, শিশু দুটির শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। একই খাবার খেয়ে তাদের বাবা-মাও অসুস্থ হয়েছিলেন, তবে তারা বর্তমানে সুস্থ আছেন। ওই খাবারটি বাসায় তৈরি নাকি বাইরে থেকে আনা, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। তাদের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির

মগবাজারে ভাই-বোনের মৃত্যু: খাবার বিষক্রিয়ার সন্দেহ পুলিশের

আপডেট সময় : ০১:৪৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মগবাজার ওয়্যারলেস মোড় এলাকায় একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো, আফরিদা চৌধুরী (১০) ও তার এক বছর বয়সী ভাই ইলহাম চৌধুরী। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য শিশু দুটির মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে ওয়্যারলেস মোড়ের একটি ভবনের নিচতলায় অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আফরিদা চৌধুরী বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী একটি তৈরি পোশাক কারখানার জিএম এবং মা সাইদা জাকাওয়াত আরা গৃহিণী। তারা মগবাজারের ওই এলাকায় বসবাস করতেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) আফরিদার জন্মদিন উপলক্ষে বাবা-মা দুই সন্তানকে নিয়ে একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন। এর কয়েক দিন পর শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাবার খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার ভোরে আফরিদা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় রাশমনো হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আফরিদার মরদেহ বাসায় আনার পর ছোট ভাই ইলহামও বমি শুরু করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে মগবাজার কমিউনিটি  হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।

নিহত শিশুদের চাচা তৌহিদ আলম চৌধুরী জানান, জন্মদিনের খাবার থেকেই বিষক্রিয়া হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা এখন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন। প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মিয়া জানান, শিশু দুটির শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। একই খাবার খেয়ে তাদের বাবা-মাও অসুস্থ হয়েছিলেন, তবে তারা বর্তমানে সুস্থ আছেন। ওই খাবারটি বাসায় তৈরি নাকি বাইরে থেকে আনা, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। তাদের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।