দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে উন্নতমানের টিফিন বা মিড-ডে মিল পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই খাবার যাতে মানসম্মত, পুষ্টিগুণসম্পন্ন এবং দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষিত থাকে, সেজন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনের একটি অডিটোরিয়ামে ‘ফ্রম জিনোম টু বায়োইকোনমি: ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বায়োটেকনোলজি সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড-ডে মিল’ নিশ্চিত করা। বর্তমানে দেওয়া বাটার বন বা কলার মতো খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা সমাধানে সাশ্রয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী খাবার তৈরির গবেষণা প্রয়োজন। এতে শিশুরা পুষ্টিকর খাবার পাবে এবং জাতীয় অপচয় রোধ হবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় ডিগ্রি থাকলেও ব্যবহারিক প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে। তাই পাঠ্যক্রম এমনভাবে সংস্কার করতে হবে যাতে তরুণ প্রজন্ম ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন করতে পারে। তিনি বায়োটেকনোলজির মতো উদীয়মান খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও স্বনির্ভরতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহদী আমিন বলেন, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারলে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও ক্যান্সার গবেষণায় বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোজ্যতেল ও চিনির মতো পণ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনে বিটরুট ও সরিষার ফলন বাড়াতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দেশের মেধাবীদের ‘ব্রেইন ড্রেন’ বন্ধ করে এটিকে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করারও আহ্বান জানান তিনি, যেখানে প্রবাসে থাকা দক্ষ গবেষক ও একাডেমিকদের যৌথ গবেষণা ও শর্ট কোর্সের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো যাবে।
রিপোর্টারের নাম 
























