ঢাকা ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

উপকূল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে সরকার, বনায়নে জোর: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, সরকার সন্দ্বীপসহ দেশের উপকূলগুলো রক্ষা ও উন্নয়নে বাস্তবসম্মত এবং দীর্ঘমেয়াদী টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, উপকূলবাসীর জীবনমান উন্নয়নেও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এসব এলাকায় নিবিড় বনায়ন প্রকল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য কোনো অবাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’ ও ‘হিউম্যান ২৪’ আয়োজিত ‘সন্দ্বীপের এপ্রিল ট্র্যাজেডি: উপকূল বাঁচাতে এখনই সিদ্ধান্ত’ শীর্ষক উপকূলীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও নদী ভাঙন থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে একটি ‘সেফটি নেট’ তৈরির চেষ্টা চলছে। সমস্যার মূলে গিয়ে সমাধান করতে হবে যাতে এর ফলাফল দীর্ঘস্থায়ী হয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উপকূলীয় ব্যবস্থাপনায় ব্লক বা বাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিগত ১৭ বছরে দেশের সম্পদ পাচারের কারণে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রাখা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আপাতত উপকূলীয় অঞ্চলে নিবিড় বনায়ন কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সন্দ্বীপের কোন ইউনিয়নে কি পরিমাণ ও কি ধরনের গাছ লাগানো হবে, তার একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে এবং এর ফলাফল আগামী এক-দেড় বছরের মধ্যেই পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সন্দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের নৌ-যোগাযোগের দুর্ভোগ লাঘবে নৌ ও সেতু প্রতিমন্ত্রীর সাথে সমন্বয় করে দ্রুত সন্দ্বীপ সফরের ঘোষণা দেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নিরাপদ নৌ-চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং মূল ভূখণ্ডের সাথে সন্দ্বীপের ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ নিশ্চিত করা।” এছাড়া ঘাটের ভাড়ার সমস্যাও আগামী দুই-চার দিনের মধ্যে সমাধান হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সন্দ্বীপে পর্যায়ক্রমে ল্যান্ড সার্ভে বা ভূমি জরিপ শুরু করা হবে, যা এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করবে। এছাড়া ভাসানচরের সীমানা নির্ধারণে ইতিমধ্যেই পিলার স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। খাজনা আদায়ের সমস্যার বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৫০০ টাকায় স্মার্টফোন: সাধারণ মানুষের নাগালে প্রযুক্তি নিতে সরকারের বড় উদ্যোগ

উপকূল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে সরকার, বনায়নে জোর: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, সরকার সন্দ্বীপসহ দেশের উপকূলগুলো রক্ষা ও উন্নয়নে বাস্তবসম্মত এবং দীর্ঘমেয়াদী টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, উপকূলবাসীর জীবনমান উন্নয়নেও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এসব এলাকায় নিবিড় বনায়ন প্রকল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য কোনো অবাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’ ও ‘হিউম্যান ২৪’ আয়োজিত ‘সন্দ্বীপের এপ্রিল ট্র্যাজেডি: উপকূল বাঁচাতে এখনই সিদ্ধান্ত’ শীর্ষক উপকূলীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও নদী ভাঙন থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে একটি ‘সেফটি নেট’ তৈরির চেষ্টা চলছে। সমস্যার মূলে গিয়ে সমাধান করতে হবে যাতে এর ফলাফল দীর্ঘস্থায়ী হয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উপকূলীয় ব্যবস্থাপনায় ব্লক বা বাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিগত ১৭ বছরে দেশের সম্পদ পাচারের কারণে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রাখা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আপাতত উপকূলীয় অঞ্চলে নিবিড় বনায়ন কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সন্দ্বীপের কোন ইউনিয়নে কি পরিমাণ ও কি ধরনের গাছ লাগানো হবে, তার একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে এবং এর ফলাফল আগামী এক-দেড় বছরের মধ্যেই পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সন্দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের নৌ-যোগাযোগের দুর্ভোগ লাঘবে নৌ ও সেতু প্রতিমন্ত্রীর সাথে সমন্বয় করে দ্রুত সন্দ্বীপ সফরের ঘোষণা দেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নিরাপদ নৌ-চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং মূল ভূখণ্ডের সাথে সন্দ্বীপের ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ নিশ্চিত করা।” এছাড়া ঘাটের ভাড়ার সমস্যাও আগামী দুই-চার দিনের মধ্যে সমাধান হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সন্দ্বীপে পর্যায়ক্রমে ল্যান্ড সার্ভে বা ভূমি জরিপ শুরু করা হবে, যা এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করবে। এছাড়া ভাসানচরের সীমানা নির্ধারণে ইতিমধ্যেই পিলার স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। খাজনা আদায়ের সমস্যার বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।