ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সর্বশেষ দফার আলোচনার অংশ হিসেবে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ফ্লোরিডায় রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন উভয় পক্ষকে সমঝোতায় আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি আসে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পরপরই। শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে চলমান এই আলোচনা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসানে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে।
বৈঠকের পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে এবং তা রবিবারও অব্যাহত থাকবে। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, শনিবারের জন্য আলোচনা শেষ হয়েছে।
দিমিত্রিয়েভ বলেন, ‘আলোচনা গঠনমূলকভাবে এগোচ্ছে। এটি আগেই শুরু হয়েছে, আজ চলেছে এবং আগামীকালও চলবে।’
ট্রাম্পের শীর্ষ কূটনীতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি আলোচনায় যোগ দিতে পারেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা যুদ্ধ অবসানের আলোচনার অংশ হিসেবে কিয়েভের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে অগ্রগতির কথা জানান। তবে এসব শর্ত মস্কোর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রয়টার্সকে দেওয়া এক রুশ সূত্র জানায়, দিমিত্রিয়েভ ও ইউক্রেনীয় আলোচকদের মধ্যে কোনও বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বন্দিবিনিময় বাড়াতে সহায়তা করে এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকের পথ সুগম করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাবে ইউক্রেন সমর্থন দেবে।
কিয়েভে স্থানীয় সাংবাদিকদের জেলেনস্কি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব দিচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়া।’
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এখনও সতর্ক করা হচ্ছে যে, পুতিন ইউক্রেনের পুরো ভূখণ্ড দখল করার অভিপ্রায় বজায় রেখেছেন—এমন তথ্য জানিয়েছেন গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো। এটি কিছু মার্কিন কর্মকর্তার সেই দাবির বিপরীত, যেখানে বলা হয়েছিল মস্কো শান্তির জন্য প্রস্তুত।
মস্কোয় বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন কোনও ছাড়ের ইঙ্গিত দেননি। তিনি বলেন, যুদ্ধ অবসানে রাশিয়ার শর্ত ২০২৪ সালের জুনের পর থেকে বদলায়নি। সে সময় তিনি ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ এবং রাশিয়া দাবি করা চারটি ইউক্রেনীয় অঞ্চল থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার দাবি জানান।
কিয়েভ জানিয়েছে, প্রায় চার বছরের যুদ্ধে যেসব এলাকা রুশ বাহিনী দখল করতে পারেনি, সেগুলো ইউক্রেন ছেড়ে দেবে না।
ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ বলেন, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদল আলোচনা করেছে এবং যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।
টেলিগ্রামে লেখেন উমেরভ। ‘আমরা আমাদের মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ ও নিকট ভবিষ্যতে যৌথ কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছি।’
তিনি জানান, আলোচনার ফলাফল প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে অবহিত করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
শুক্রবার সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক পথ বাকি।
রিপোর্টারের নাম 
























