ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের লোকসানে নতুন রেকর্ড: এক বছরেই বাড়ল ৯৪ শতাংশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ২০২৪–২৫ অর্থবছরে লোকসানের এক নতুন এবং ভয়াবহ রেকর্ড গড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থার অডিটর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে পিডিবির লোকসান ১৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৮ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

মাত্র এক বছরের ব্যবধানে লোকসানের পরিমাণ ৮ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা বা প্রায় ৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা দেশের বিদ্যুৎ খাতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পিডিবির এই বিশাল লোকসান বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে, যার ফলে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকায়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা, উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, অদক্ষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই এই আর্থিক সংকটের মূল কারণ। বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। বিশেষ করে বিতর্কিত বিদ্যুৎ চুক্তিগুলোর মাধ্যমে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বাবদ কেন্দ্রগুলো অলস বসে থাকলেও সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সাথে প্রকৃত চাহিদার অসামঞ্জস্য এই কাঠামোগত সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

বিগত ১৬ বছরে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েও এই লোকসান কমানো সম্ভব হয়নি, বরং একে ‘লুটপাটের হাতিয়ার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিদ্যুৎ খাতের এই লোকসান সামাল দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন মনে করেন, প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন। সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকায় এবং উৎপাদন ব্যয় আগের মতোই উচ্চ পর্যায়ে থাকায় অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হত্যা: দপ্তরেই নির্মম বলি, নেপথ্যে বদলি বিতর্ক?

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের লোকসানে নতুন রেকর্ড: এক বছরেই বাড়ল ৯৪ শতাংশ

আপডেট সময় : ০৯:৩১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ২০২৪–২৫ অর্থবছরে লোকসানের এক নতুন এবং ভয়াবহ রেকর্ড গড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থার অডিটর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে পিডিবির লোকসান ১৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৮ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

মাত্র এক বছরের ব্যবধানে লোকসানের পরিমাণ ৮ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা বা প্রায় ৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা দেশের বিদ্যুৎ খাতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পিডিবির এই বিশাল লোকসান বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে, যার ফলে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকায়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা, উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, অদক্ষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই এই আর্থিক সংকটের মূল কারণ। বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। বিশেষ করে বিতর্কিত বিদ্যুৎ চুক্তিগুলোর মাধ্যমে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বাবদ কেন্দ্রগুলো অলস বসে থাকলেও সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সাথে প্রকৃত চাহিদার অসামঞ্জস্য এই কাঠামোগত সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

বিগত ১৬ বছরে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েও এই লোকসান কমানো সম্ভব হয়নি, বরং একে ‘লুটপাটের হাতিয়ার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিদ্যুৎ খাতের এই লোকসান সামাল দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন মনে করেন, প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন। সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকায় এবং উৎপাদন ব্যয় আগের মতোই উচ্চ পর্যায়ে থাকায় অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।