ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন হজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সৌদি সরকারের কঠোর ৬ নির্দেশনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

আগামী বছরের পবিত্র হজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনাগুলোর কথা জানিয়ে বাংলাদেশের হজ এজেন্সিগুলোর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য হজের কোটা ছিল এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এই হজে যাওয়ার জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে।

সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ৬টি নির্দেশনা নিম্নরূপ:

১. হজ চুক্তির খসড়া তৈরির জন্য বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীর সংখ্যা, জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর দিয়ে আসা-যাওয়া করা হজযাত্রীর সংখ্যাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পাঠাতে হবে।

২. হজযাত্রী শিফটিং সংক্রান্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোনো হজযাত্রীকে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে স্থানান্তর করা যাবে না, ‘মাসার সিস্টেমে’ এক ভবনের তথ্য দিয়ে অন্য ভবনে আবাসনের ব্যবস্থা করা যাবে না, কিংবা অননুমোদিত বা মাসার সিস্টেমের বাইরে চুক্তিবদ্ধ ভবনে হজযাত্রীর আবাসন দেওয়া যাবে না। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এমন কোনো প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিসহ এজেন্সির প্রধানকে কালো তালিকাভুক্ত করবে এবং সৌদি আরবে তাদের প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।

৩. গত বছর (২০২৫ হজ মৌসুমে) মন্ত্রণালয় কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত কোনো এজেন্সি আসন্ন হজ পরিচালনায় অংশ নিতে পারবে না।

৪. ফলপ্রসূ যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হচ্ছে। ওই গ্রুপে যোগ্য এজেন্সির নাম ও বিবরণসহ তালিকা দ্রুত দিতে হবে। এছাড়াও, গ্রুপে বাংলাদেশের ২০২৬ হজ মৌসুমে মোট হজযাত্রীর সংখ্যা, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে হজযাত্রীর সংখ্যা, তাঁবু বুকিং সংক্রান্ত তথ্য, মনোনীত লিড এজেন্সির তালিকা, লিড এজেন্সির হজযাত্রীর সংখ্যা, লিড এজেন্সির ওয়ালেটে অর্থ আনয়ন সংক্রান্ত তথ্য, লিড এজেন্সির আইবিএএন নম্বর এবং বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য অবশ্যই আপলোড করতে হবে।

৫. সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক চিহ্নিত ৯ ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যেতে পারবেন না। প্রত্যেক হজযাত্রীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে ‘হজ অ্যাফেয়ার্স সার্টিফিকেট’ দিতে হবে। এই সার্টিফিকেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে হজযাত্রীদের ভিসা দেওয়া হবে। সার্টিফিকেট প্রদান প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে মেডিক্যাল টিমের প্রধানকে সৌদি আরবে নিষিদ্ধ করা হবে এবং ভবিষ্যতে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হবে। একই সাথে, হজ অ্যাফেয়ার্স অফিসের প্রধানকে নিষিদ্ধ করা হবে এবং পরবর্তী বছরের হজযাত্রী কোটায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

৬. ২০২৬ হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের জন্য ‘নুসুক কার্ড’ সৌদি আরবের বিমানবন্দর থেকে হোটেলে পরিবহনকারী বাসে সরবরাহ করা হবে। এর জন্য প্রতিটি হজ কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থাকে তাদের হজযাত্রীর মক্কা ও মদিনার হোটেলের নাম, ঠিকানা, কক্ষ নম্বর ও বেড নম্বর সম্পর্কিত সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য আগেভাগে সরবরাহ করতে হবে। এই সমস্ত তথ্য নুসুক কার্ডে যুক্ত করা হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরাকান আর্মির প্রধানের অভিনন্দন, নতুন বন্ধুত্বের বার্তা

আসন্ন হজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সৌদি সরকারের কঠোর ৬ নির্দেশনা

আপডেট সময় : ১০:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

আগামী বছরের পবিত্র হজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনাগুলোর কথা জানিয়ে বাংলাদেশের হজ এজেন্সিগুলোর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য হজের কোটা ছিল এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এই হজে যাওয়ার জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে।

সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ৬টি নির্দেশনা নিম্নরূপ:

১. হজ চুক্তির খসড়া তৈরির জন্য বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীর সংখ্যা, জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর দিয়ে আসা-যাওয়া করা হজযাত্রীর সংখ্যাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পাঠাতে হবে।

২. হজযাত্রী শিফটিং সংক্রান্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোনো হজযাত্রীকে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে স্থানান্তর করা যাবে না, ‘মাসার সিস্টেমে’ এক ভবনের তথ্য দিয়ে অন্য ভবনে আবাসনের ব্যবস্থা করা যাবে না, কিংবা অননুমোদিত বা মাসার সিস্টেমের বাইরে চুক্তিবদ্ধ ভবনে হজযাত্রীর আবাসন দেওয়া যাবে না। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এমন কোনো প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিসহ এজেন্সির প্রধানকে কালো তালিকাভুক্ত করবে এবং সৌদি আরবে তাদের প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।

৩. গত বছর (২০২৫ হজ মৌসুমে) মন্ত্রণালয় কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত কোনো এজেন্সি আসন্ন হজ পরিচালনায় অংশ নিতে পারবে না।

৪. ফলপ্রসূ যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হচ্ছে। ওই গ্রুপে যোগ্য এজেন্সির নাম ও বিবরণসহ তালিকা দ্রুত দিতে হবে। এছাড়াও, গ্রুপে বাংলাদেশের ২০২৬ হজ মৌসুমে মোট হজযাত্রীর সংখ্যা, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে হজযাত্রীর সংখ্যা, তাঁবু বুকিং সংক্রান্ত তথ্য, মনোনীত লিড এজেন্সির তালিকা, লিড এজেন্সির হজযাত্রীর সংখ্যা, লিড এজেন্সির ওয়ালেটে অর্থ আনয়ন সংক্রান্ত তথ্য, লিড এজেন্সির আইবিএএন নম্বর এবং বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য অবশ্যই আপলোড করতে হবে।

৫. সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক চিহ্নিত ৯ ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যেতে পারবেন না। প্রত্যেক হজযাত্রীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে ‘হজ অ্যাফেয়ার্স সার্টিফিকেট’ দিতে হবে। এই সার্টিফিকেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে হজযাত্রীদের ভিসা দেওয়া হবে। সার্টিফিকেট প্রদান প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে মেডিক্যাল টিমের প্রধানকে সৌদি আরবে নিষিদ্ধ করা হবে এবং ভবিষ্যতে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হবে। একই সাথে, হজ অ্যাফেয়ার্স অফিসের প্রধানকে নিষিদ্ধ করা হবে এবং পরবর্তী বছরের হজযাত্রী কোটায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

৬. ২০২৬ হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের জন্য ‘নুসুক কার্ড’ সৌদি আরবের বিমানবন্দর থেকে হোটেলে পরিবহনকারী বাসে সরবরাহ করা হবে। এর জন্য প্রতিটি হজ কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থাকে তাদের হজযাত্রীর মক্কা ও মদিনার হোটেলের নাম, ঠিকানা, কক্ষ নম্বর ও বেড নম্বর সম্পর্কিত সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য আগেভাগে সরবরাহ করতে হবে। এই সমস্ত তথ্য নুসুক কার্ডে যুক্ত করা হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছে।