ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

তুরস্কের ইস্তানবুলকে দুবাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ ছাড়

ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার পর প্রতিশোধ নিতে তেহরান ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের এই বৈশ্বিক পুঁজি কেন্দ্রগুলো যুদ্ধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিনিয়োগকারী ও সংস্থাগুলোকে নিজ দেশে আকৃষ্ট করার জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করছে।

মিডল ইস্ট আই-এর একটি সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন যে, আঙ্কারা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য কর ছাড় এবং অন্যান্য সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ইস্তানবুল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারে (আইএফসি) ইতোমধ্যে এই বিষয়ে প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিক কেন্দ্র এবং আবুধাবি ও দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে ইরান টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে সেখানকার কিছু সংস্থা তাদের ব্যবসাবাণিজ্য তুরস্কে সরিয়ে আনার কথা ভাবছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা সংস্থাগুলোর পাশাপাশি প্রযুক্তি স্টার্টআপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা এবং ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ইস্তানবুল তুরস্কের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এখানে অবস্থিত আইএফসি-তে ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার বিভিন্ন ধরনের কর সুবিধা প্রদান করছে। এর মধ্যে রয়েছে করমুক্ত রপ্তানি আয়সহ সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলোতে আনুষঙ্গিক চার্জ থেকে অব্যাহতি।

এছাড়াও, আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ কর্মীদের জন্য বেতন কর প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি কর্মী কত বছর ধরে কাজ করছেন তার ওপর ভিত্তি করে তাদের প্রকৃত বেতনের ৬০ বা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, তুরস্ক সরকার এই কর প্রণোদনাগুলোর কিছু অংশ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য আরও ব্যাপকভাবে প্রসারিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানিগুলোকে বিদেশি কেনা পণ্য নিজে বিক্রি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিক্রির পর অর্জিত আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে দেখা গেছে, বিনিয়োগের জন্য তুরস্কের প্রতি বিদেশি সংস্থাগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। এই মাসের শুরুতে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত একটি বৈঠকে ইস্তানবুলে বিশ্বব্যাপী ৪০ জন সিইও-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকের ক্রীড়াঙ্গনে উত্তেজনার পারদ: পিএসএল ও ম্যানইউ-লিডসের মহারণ

তুরস্কের ইস্তানবুলকে দুবাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ ছাড়

আপডেট সময় : ০৬:০২:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার পর প্রতিশোধ নিতে তেহরান ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের এই বৈশ্বিক পুঁজি কেন্দ্রগুলো যুদ্ধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিনিয়োগকারী ও সংস্থাগুলোকে নিজ দেশে আকৃষ্ট করার জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করছে।

মিডল ইস্ট আই-এর একটি সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন যে, আঙ্কারা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য কর ছাড় এবং অন্যান্য সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ইস্তানবুল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারে (আইএফসি) ইতোমধ্যে এই বিষয়ে প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিক কেন্দ্র এবং আবুধাবি ও দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে ইরান টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে সেখানকার কিছু সংস্থা তাদের ব্যবসাবাণিজ্য তুরস্কে সরিয়ে আনার কথা ভাবছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা সংস্থাগুলোর পাশাপাশি প্রযুক্তি স্টার্টআপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা এবং ডেটা সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ইস্তানবুল তুরস্কের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এখানে অবস্থিত আইএফসি-তে ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার বিভিন্ন ধরনের কর সুবিধা প্রদান করছে। এর মধ্যে রয়েছে করমুক্ত রপ্তানি আয়সহ সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলোতে আনুষঙ্গিক চার্জ থেকে অব্যাহতি।

এছাড়াও, আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ কর্মীদের জন্য বেতন কর প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি কর্মী কত বছর ধরে কাজ করছেন তার ওপর ভিত্তি করে তাদের প্রকৃত বেতনের ৬০ বা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, তুরস্ক সরকার এই কর প্রণোদনাগুলোর কিছু অংশ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য আরও ব্যাপকভাবে প্রসারিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানিগুলোকে বিদেশি কেনা পণ্য নিজে বিক্রি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিক্রির পর অর্জিত আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে দেখা গেছে, বিনিয়োগের জন্য তুরস্কের প্রতি বিদেশি সংস্থাগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। এই মাসের শুরুতে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত একটি বৈঠকে ইস্তানবুলে বিশ্বব্যাপী ৪০ জন সিইও-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।