বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন ও গণতন্ত্রের গুরুত্ব এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের বহুমুখী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টি ও নিয়মনীতির যেমন স্বতন্ত্র সৌন্দর্য আছে তেমনি রাজনীতিরও নিজস্ব রূপ রয়েছে। প্রকৃত স্বাধীনতা হলো আইনকানুন ও নীতি আদর্শ মেনে চলা এবং সত্য ও সুন্দরকে ধারণ করা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান যা সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র দুটি প্রধান দলের আধিপত্য থাকলেও কিংবা প্রতিবেশী দেশ ভারতে জাতীয় দলের সংখ্যা সীমিত হলেও বাংলাদেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা বর্তমানে ৬০টি। ৫৪ বছরের স্বাধীন বাংলাদেশে এই রাজনৈতিক বৈচিত্র্য যেমন গণতন্ত্রের সৌন্দর্য তেমনি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আদর্শের দ্রুত পরিবর্তন অনেক সময় নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে এখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ শুরু হয়েছে। একসময়ের প্রভাবশালী দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও প্রায় বিলীন অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি দীর্ঘ সতেরো বছরের দমনপীড়ন মোকাবিলা করে এখন প্রধান শক্তি হিসেবে বিকশিত হচ্ছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমান্তরালভাবে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে বেশ স্বস্তিকর অবস্থানে রয়েছে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামানের দলটিতে যোগদানের মতো ঘটনাগুলো নির্বাচনের আগে নতুন চমক হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তবে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ব্যক্তিগত আচরণের ক্ষেত্রে নেতাদের সংযম বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের শঙ্কাও ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন নির্ধারণ করে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত কাউকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে ইনকিলাব মঞ্চের শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার মতো ঘটনাগুলো নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে নির্বাচনই হলো গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য এবং এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে দেশ বিরাজনীতিকরণের ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই জাতীয় স্বার্থে সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।
স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও জাতীয় প্রশ্নে বিভাজন আজও স্পষ্ট। যারা একাত্তরের চেতনা ধারণ করেন এবং যারা তা অস্বীকার করতে চান তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতীতের রাজনৈতিক ভুলগুলো স্বীকার করে নিয়ে হাতে হাত রেখে চলার পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। বিজয় দিবসের ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট করেছেন যে ভোট রক্ষা করা মানেই দেশ রক্ষা করা। সুতরাং সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচন সফল করাই হবে গণতন্ত্রের মুক্তি ও ভবিষ্যতের উজ্জ্বল সোপান।
রিপোর্টারের নাম 

























