তফসিল ঘোষণার এক সপ্তাহ পার হতে চললেও নির্বাচনী মাঠে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। বরং একের পর এক সহিংস ঘটনা এবং প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি এবং চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে।
নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, ঢাকায় ওসমান হাদির ওপর হামলার পর তার পরিবার প্রচণ্ড আতঙ্কে রয়েছে এবং তাদের অনুরোধেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই কারণে ঢাকা-৯ আসনে এনসিপি প্রার্থী ডা. তাসনিম জারাও তার প্রচারণা স্থগিত করেছেন।
১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। হামলাকারী ফয়সাল করিম মাসুদ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বলে শনাক্ত হয়েছে। গুরুতর আহত হাদিকে বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহও নির্বাচনী জনসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ হন।
নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে এবং প্রার্থীদের আতঙ্ক কাটাতে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা প্রার্থীদের পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে গানম্যান এবং ডিএমপি থেকে ইউনিফর্মধারী বডিগার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা ও প্রার্থীদের বাসস্থান, কার্যালয় এবং জনসভার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা প্রটোকল সরবরাহ করবে পুলিশ। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট–২’ শুরু হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, জুলাইযোদ্ধাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু আশ্বাস নয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ভোটারদের আস্থা ফেরানো কঠিন হবে।
রিপোর্টারের নাম 



















