রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ এখন একটি একক রাজনৈতিক দলে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত এনসিপি ও এবি পার্টি এবং নিবন্ধন পেতে আইনি লড়াই চালানো রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন—এই তিন দল মিলে গত ৭ ডিসেম্বর জোটের ঘোষণা দিলেও, বর্তমান আইনি জটিলতা এড়াতে তারা একীভূত হওয়ার চিন্তা করছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী, জোটভুক্ত হলেও প্রতিটি দলকে নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। এই বিধানের কারণে জোটের লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে ভেবে দলগুলো একীভূত হওয়ার বিকল্প ভাবছে। এ ক্ষেত্রে দলগুলোর প্রথম পছন্দ ‘শাপলা কলি’ প্রতীক।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু জানান, এটি একটি চিন্তাধীন বিষয়। যেহেতু তাদের রাজনীতি অভিন্ন, তাই প্রতীকও এক রাখা যায় কি না সে বিষয়ে তারা ভাবছেন। আরপিও-র বাধা দূর করতে একটি পপুলার মার্কাকে সামনে রেখে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম মনে করেন, তিন দলের মধ্যে এনসিপি এবং তাদের প্রতীক সবথেকে বেশি পরিচিতি পেয়েছে। তাই কৌশলগত কারণে ওই প্রতীক ব্যবহারের চিন্তা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তবে আরপিও সংশোধিত না হলে দল বিলুপ্ত করে একসঙ্গে নির্বাচন করার কঠিন পথটিও তাদের বিবেচনায় রয়েছে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামান্তা শারমিন দলগুলোর রাজনৈতিক কলেবর বৃদ্ধিতে সায় দিয়ে বলেন, এনসিপির শক্ত অবস্থান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে এই প্রক্রিয়া এনসিপিকে মূল দল মেনেই এগোতে পারে বলে তিনি আভাস দেন।
এদিকে রাজনীতি বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অধ্যাপক ড. শামীম রেজা মনে করেন, রাজনীতির জটিল সমীকরণে এই শরিকরা কতটুকু অবস্থান তৈরি করতে পারবেন, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অ্যাক্টিভিস্ট কার্যক্রম এবং প্রকৃত রাজনীতি আলাদা বিষয়। তাই দলগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ আদর্শিক ঐক্যই এই একীভূত হওয়ার প্রধান শর্ত হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























