ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের ৫০ এমপি প্রার্থীকে হত্যার মিশন নিয়েছে: রাশেদ খান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে বিরোধী দলের অন্তত ৫০ জন এমপি প্রার্থীকে হত্যার মিশন নিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খান এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান সম্প্রতি গুলিবিদ্ধ হওয়া ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের একজন বিপ্লবী যোদ্ধা, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর—যিনি আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছিলেন-ওসমান হাদি ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় গুলি করা হয়েছে। অথচ এখনো পর্যন্ত সেই হামলার মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা যায়নি।”

তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানতে চান, “যদি সাধারণ মানুষ আসামিদের শনাক্ত করে দিতে পারে, তাহলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে- এমন ঘোষণা কেন দিতে হচ্ছে? তাহলে গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, র‍্যাব ও যৌথবাহিনী কী করছে?” রাশেদ খানের ভাষায়, আগে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের ভেতরে ও বিভিন্ন বাহিনীতে থাকা ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ ধরতে নতুন করে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট–২’ ঘোষণা করা উচিত।

সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের অযোগ্যতা, অদক্ষতা ও উপদেষ্টাদের মধ্যে স্পষ্ট সমন্বয়হীনতা জনগণের সামনে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা সংস্কারের কথা অনেক শুনেছি…ইউরোপ-আমেরিকার মতো রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি না।”

গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা আরও বলেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নতুন রাষ্ট্র গড়ে তোলা। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা এখনও নতুন রাষ্ট্রের কথা বলছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারাও একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই নতুন বাংলাদেশ আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।”

রাশেদ খানের এসব বক্তব্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলি ট্যাংক ও সামরিক স্থাপনায় হিজবুল্লাহর জোরালো হামলা

আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের ৫০ এমপি প্রার্থীকে হত্যার মিশন নিয়েছে: রাশেদ খান

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে বিরোধী দলের অন্তত ৫০ জন এমপি প্রার্থীকে হত্যার মিশন নিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খান এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান সম্প্রতি গুলিবিদ্ধ হওয়া ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের একজন বিপ্লবী যোদ্ধা, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর—যিনি আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছিলেন-ওসমান হাদি ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় গুলি করা হয়েছে। অথচ এখনো পর্যন্ত সেই হামলার মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা যায়নি।”

তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানতে চান, “যদি সাধারণ মানুষ আসামিদের শনাক্ত করে দিতে পারে, তাহলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে- এমন ঘোষণা কেন দিতে হচ্ছে? তাহলে গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, র‍্যাব ও যৌথবাহিনী কী করছে?” রাশেদ খানের ভাষায়, আগে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের ভেতরে ও বিভিন্ন বাহিনীতে থাকা ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ ধরতে নতুন করে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট–২’ ঘোষণা করা উচিত।

সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের অযোগ্যতা, অদক্ষতা ও উপদেষ্টাদের মধ্যে স্পষ্ট সমন্বয়হীনতা জনগণের সামনে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা সংস্কারের কথা অনেক শুনেছি…ইউরোপ-আমেরিকার মতো রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি না।”

গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা আরও বলেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নতুন রাষ্ট্র গড়ে তোলা। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা এখনও নতুন রাষ্ট্রের কথা বলছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারাও একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই নতুন বাংলাদেশ আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।”

রাশেদ খানের এসব বক্তব্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।