ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বহিরাগতদের ঠেকাতে প্রশাসনের ব্যর্থতা: ভিপি প্রার্থীর ইব্রাহিম রনির গুরুতর অভিযোগ

ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি অভিযোগ করে বলেছেন যে, বহিরাগতদের প্রবেশ আটকাতে প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি জানান, ছাত্রদলের আলাওল হল জিএস প্রার্থী নূরনবীসহ অনেকের সঙ্গেই বহিরাগত দেখা গেছে। অথচ এই দিন আইডি কার্ড ছাড়া কারও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করার কথা ছিল না।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় চাকসু ভবনের সামনে একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্যগুলো করেন।

রনি আরও অভিযোগ করেন, ভোট দেওয়ার পর আঙুলে যে কালি দেওয়া হয়েছিল, তা অমোচনীয় হওয়ার কথা থাকলেও সহজে উঠে গিয়েছে। এই বিষয়ে প্রশাসনের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। এছাড়া, আইটি ভবনের ২১৪ নম্বর রুমে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়াই ব্যালট বাক্সে ১০ থেকে ১৫টি ব্যালট পড়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রিসাইডিং অফিসার অসতর্কতার কারণে এমন হয়েছে বলে জানালেও, ইব্রাহিম রনি এই অসতর্কতার জন্য তাঁকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন এবং চট্টগ্রাম উত্তর ছাত্রদলের সেক্রেটারি সরোয়ার হোসেন রুবেলের নেতৃত্বে শত শত ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মী ১ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন রফিক ছাত্রাবাসের সামনে অবস্থান নিয়েছিল। গণমাধ্যমে একাধিকবার এই বিষয়ে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। একইসঙ্গে, বিবিএ ফ্যাকাল্টিতে একজন ছাত্রী ভোট দিতে পারেননি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইব্রাহিম রনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ তরুয়া ভবনের এফ আর আলাওল হলের এলএডি স্ক্রিনটি প্রথম দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। সায়েন্স ফ্যাকাল্টির এলইডি স্ক্রিনও শুরু থেকে বেশিরভাগ সময়ই অচল ছিল। বারবার জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিবিএ ফ্যাকাল্টিতে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ছাত্রদল কর্মীরা ভিড় জমিয়ে ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে কারণ ছাড়াই শোরগোল করলেও প্রশাসন ছিল নীরব।

এর আগে আজ সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হয়। এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ওএমআর (OMR) পদ্ধতিতে। ভোটের ফল সরাসরি ১৪টি এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে গণনা করে দেখানো হবে।

এবারের নির্বাচনে চাকসুর ২৬টি পদের জন্য ৪১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এবং হল ও হোস্টেল সংসদের ২৪টি পদের জন্য লড়ছেন ৪৯৩ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৫১৬ জন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

বহিরাগতদের ঠেকাতে প্রশাসনের ব্যর্থতা: ভিপি প্রার্থীর ইব্রাহিম রনির গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি অভিযোগ করে বলেছেন যে, বহিরাগতদের প্রবেশ আটকাতে প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি জানান, ছাত্রদলের আলাওল হল জিএস প্রার্থী নূরনবীসহ অনেকের সঙ্গেই বহিরাগত দেখা গেছে। অথচ এই দিন আইডি কার্ড ছাড়া কারও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করার কথা ছিল না।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় চাকসু ভবনের সামনে একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্যগুলো করেন।

রনি আরও অভিযোগ করেন, ভোট দেওয়ার পর আঙুলে যে কালি দেওয়া হয়েছিল, তা অমোচনীয় হওয়ার কথা থাকলেও সহজে উঠে গিয়েছে। এই বিষয়ে প্রশাসনের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। এছাড়া, আইটি ভবনের ২১৪ নম্বর রুমে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়াই ব্যালট বাক্সে ১০ থেকে ১৫টি ব্যালট পড়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রিসাইডিং অফিসার অসতর্কতার কারণে এমন হয়েছে বলে জানালেও, ইব্রাহিম রনি এই অসতর্কতার জন্য তাঁকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন এবং চট্টগ্রাম উত্তর ছাত্রদলের সেক্রেটারি সরোয়ার হোসেন রুবেলের নেতৃত্বে শত শত ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মী ১ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন রফিক ছাত্রাবাসের সামনে অবস্থান নিয়েছিল। গণমাধ্যমে একাধিকবার এই বিষয়ে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। একইসঙ্গে, বিবিএ ফ্যাকাল্টিতে একজন ছাত্রী ভোট দিতে পারেননি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইব্রাহিম রনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ তরুয়া ভবনের এফ আর আলাওল হলের এলএডি স্ক্রিনটি প্রথম দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। সায়েন্স ফ্যাকাল্টির এলইডি স্ক্রিনও শুরু থেকে বেশিরভাগ সময়ই অচল ছিল। বারবার জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিবিএ ফ্যাকাল্টিতে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ছাত্রদল কর্মীরা ভিড় জমিয়ে ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে কারণ ছাড়াই শোরগোল করলেও প্রশাসন ছিল নীরব।

এর আগে আজ সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হয়। এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ওএমআর (OMR) পদ্ধতিতে। ভোটের ফল সরাসরি ১৪টি এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে গণনা করে দেখানো হবে।

এবারের নির্বাচনে চাকসুর ২৬টি পদের জন্য ৪১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এবং হল ও হোস্টেল সংসদের ২৪টি পদের জন্য লড়ছেন ৪৯৩ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৫১৬ জন।