ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ খনন শুরু, প্রতিদিন উত্তোলন হবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস গ্যাসের ২৮ নম্বর কূপের খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কূপটি উদ্বোধন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কূপের গ্যাস উত্তোলন হলে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে কমপক্ষে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) প্রকৌশলী মো. শোয়েব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কূপ খনন কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তিতাস ও কামতা ফিল্ডে কর্মরত প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পেট্রোবাংলার পরিচালক প্রকৌশলী ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পেট্রোবাংলার আওতাধীন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)-এর তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি কূপ (তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ এবং কামরা-১) খননের জন্য ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পটি খনন করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সানকুইন ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি সিসিডিসি। গত ১০ এপ্রিল সম্পাদিত চুক্তির আওতায় রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণ, খনন যন্ত্রপাতি ও খনন মালামাল মোবিলাইজেশন শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাস গ্যাস ফিল্ডের সি লোকেশনে তিতাস-২৮ কূপটির আজ খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়।

তিতাস-২৮ কূপ খনন কাজের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিন জানান, তিতাস-২৮নং কূপটি তিতাস গ্যাস ফিল্ডের লোকেশন-‘সি’তে অবস্থিত সারফেস লোকেশন থেকে প্রায় ৩৬৩৬ মিটার গভীরতায় খনন করা হবে। কূপটি খনন এবং আনুষঙ্গিক কাজের জন্য আনুমানিক ১১০ দিন সময় নেওয়া হয়েছে। খনন কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হলে এই কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এ কূপটির খনন শেষে প্রকল্পের আওতায় বাকি অন্য কূপগুলো খনন করা হবে।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  প্রকৌশলী ফারুক হোসেন বলেন, ‘তিতাস গ্যাস ফিল্ডে একটি গভীর অনুসন্ধ্যান কূপ খনন কাজ অচিরেই শুরু হবে। ওই কূপটির খনন কাজ শেষ হলে তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের গভীর স্তর সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। গভীর কূপ থেকে গ্যাস পাওয়া গেলে, তিতাস গ্যাস ফিল্ডের গ্যাসের মজুত বৃদ্ধি পাবে।’

উল্লেখ্য, জাতীয় জ্বালানি চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)-এর প্রকল্প সহ ৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। যার আওতায় ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন, দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন, ৭টি কূপের ওয়ার্কওভার, তিতাস ফিল্ডের ২টি লোকেশনে ৬টি ওয়েলহেড কম্প্রেসর স্থাপন এবং হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা ফিল্ডের ১৪৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ত্রি-মাত্রিক সাইসমিক জরিপ কাজ সম্পাদিত হচ্ছে।

এ ছাড়াও জানুয়ারি ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়িতব্য ৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১০টি নতুন কূপ খনন, ১০টি বিদ্যমান কূপের ওয়ার্কওভার এবং তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী ফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় দ্বি-মাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক সাইসমিক জরিপ কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা, জারি সতর্কতা

তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ খনন শুরু, প্রতিদিন উত্তোলন হবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস গ্যাসের ২৮ নম্বর কূপের খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কূপটি উদ্বোধন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কূপের গ্যাস উত্তোলন হলে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে কমপক্ষে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) প্রকৌশলী মো. শোয়েব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কূপ খনন কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তিতাস ও কামতা ফিল্ডে কর্মরত প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পেট্রোবাংলার পরিচালক প্রকৌশলী ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পেট্রোবাংলার আওতাধীন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)-এর তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি কূপ (তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ এবং কামরা-১) খননের জন্য ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পটি খনন করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সানকুইন ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি সিসিডিসি। গত ১০ এপ্রিল সম্পাদিত চুক্তির আওতায় রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণ, খনন যন্ত্রপাতি ও খনন মালামাল মোবিলাইজেশন শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাস গ্যাস ফিল্ডের সি লোকেশনে তিতাস-২৮ কূপটির আজ খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়।

তিতাস-২৮ কূপ খনন কাজের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিন জানান, তিতাস-২৮নং কূপটি তিতাস গ্যাস ফিল্ডের লোকেশন-‘সি’তে অবস্থিত সারফেস লোকেশন থেকে প্রায় ৩৬৩৬ মিটার গভীরতায় খনন করা হবে। কূপটি খনন এবং আনুষঙ্গিক কাজের জন্য আনুমানিক ১১০ দিন সময় নেওয়া হয়েছে। খনন কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হলে এই কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এ কূপটির খনন শেষে প্রকল্পের আওতায় বাকি অন্য কূপগুলো খনন করা হবে।

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  প্রকৌশলী ফারুক হোসেন বলেন, ‘তিতাস গ্যাস ফিল্ডে একটি গভীর অনুসন্ধ্যান কূপ খনন কাজ অচিরেই শুরু হবে। ওই কূপটির খনন কাজ শেষ হলে তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের গভীর স্তর সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। গভীর কূপ থেকে গ্যাস পাওয়া গেলে, তিতাস গ্যাস ফিল্ডের গ্যাসের মজুত বৃদ্ধি পাবে।’

উল্লেখ্য, জাতীয় জ্বালানি চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)-এর প্রকল্প সহ ৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। যার আওতায় ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন, দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন, ৭টি কূপের ওয়ার্কওভার, তিতাস ফিল্ডের ২টি লোকেশনে ৬টি ওয়েলহেড কম্প্রেসর স্থাপন এবং হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা ফিল্ডের ১৪৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ত্রি-মাত্রিক সাইসমিক জরিপ কাজ সম্পাদিত হচ্ছে।

এ ছাড়াও জানুয়ারি ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়িতব্য ৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১০টি নতুন কূপ খনন, ১০টি বিদ্যমান কূপের ওয়ার্কওভার এবং তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী ফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় দ্বি-মাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক সাইসমিক জরিপ কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।