ঢাকা ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

উৎসব-ঐতিহ্য আর বিজয়ের গল্পে মুখর উপজেলা মেলা চত্বর

রাজশাহীর পবা উপজেলায় বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মেলার উদ্বোধন করা হয়। এই মেলা চলবে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজ। উদ্বোধনের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রথম দিন থেকেই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়। বিজয়ের আনন্দে সাজানো মেলা প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, এবারের বিজয় মেলায় মোট ১২টি স্টল বসানো হয়েছে। উপজেলা চত্বরজুড়ে সারিবদ্ধভাবে সাজানো স্টলগুলোর প্রতিটির মাথায় একই নকশায় ‘বিজয় মেলা’ লেখা নামফলক রয়েছে। শুধু স্টল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম দিনের মেলায় বিক্রয়কর্মীরা স্টল সাজানো ও পণ্য প্রদর্শনে ব্যস্ত সময় পার করেন। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো।

মেলায় প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে ছিল বিভিন্ন প্রকাশনার বই, নান্দনিক দেশজ পণ্য, বুটিকস ও হস্তশিল্প, চারু ও কারুশিল্প, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রকমারি শিল্পপণ্য এবং ঐতিহ্যবাহী দেশি পিঠার সমাহার। এসব পণ্য মেলায় আগত দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বসানো পিঠা স্টলটি মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। সেখানে পাটিসাপটা, পাকওয়ান, পুলি পিঠা, ভাপা পিঠা, পায়েস, তিলের কটকটি, নারিকেলের নাড়ু, বিস্কুট পিঠা, ফুল পিঠা, জামাই পিঠা ও ডিম আলুর কাবাবসহ নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা পাওয়া যায়। এ ছাড়া বড়গাছি মহিলা সমবায় সমিতির উদ্যোগে পিঠা, আচার ও সবজির স্টল বসানো হয়েছে। অনিন্দ্য প্রকাশনার মার্কেটিং ম্যানেজার গোলাম কিবরিয়ার উদ্যোগে বসানো বইয়ের স্টলে বিভিন্ন বিষয়ের বই প্রদর্শিত হচ্ছে। বইপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে স্থাপিত স্টলে কৃষিপণ্যের সমাহার ও একটি সেলফি স্ট্যান্ড রাখা হয়েছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের ফসল সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি সেলফি স্ট্যান্ডটি দর্শনার্থীদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে। বিশেষ করে তরুণ দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায় এই স্টলে।

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে বসানো বুটিকস ও হস্তশিল্পের পোশাকের স্টলে নারীদের তৈরি বিভিন্ন নকশার পোশাক প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। উপজেলা পল্লি উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে বসানো দেশজ পণ্যের স্টলে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী নানা সামগ্রী স্থান পেয়েছে।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন– সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. আব্দুল লতিফ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোতাহার হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবু বাশির, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন, বিআরডিবি কর্মকর্তা শামসুন্নাহার, নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুদ্দিন প্রামানিকসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিজয় দিবসের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য প্রদর্শন ও বিপণনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এই বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

তিন দিনব্যাপী এ মেলায় প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা, জারি সতর্কতা

উৎসব-ঐতিহ্য আর বিজয়ের গল্পে মুখর উপজেলা মেলা চত্বর

আপডেট সময় : ০২:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর পবা উপজেলায় বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মেলার উদ্বোধন করা হয়। এই মেলা চলবে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজ। উদ্বোধনের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রথম দিন থেকেই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়। বিজয়ের আনন্দে সাজানো মেলা প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, এবারের বিজয় মেলায় মোট ১২টি স্টল বসানো হয়েছে। উপজেলা চত্বরজুড়ে সারিবদ্ধভাবে সাজানো স্টলগুলোর প্রতিটির মাথায় একই নকশায় ‘বিজয় মেলা’ লেখা নামফলক রয়েছে। শুধু স্টল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম দিনের মেলায় বিক্রয়কর্মীরা স্টল সাজানো ও পণ্য প্রদর্শনে ব্যস্ত সময় পার করেন। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো।

মেলায় প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে ছিল বিভিন্ন প্রকাশনার বই, নান্দনিক দেশজ পণ্য, বুটিকস ও হস্তশিল্প, চারু ও কারুশিল্প, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রকমারি শিল্পপণ্য এবং ঐতিহ্যবাহী দেশি পিঠার সমাহার। এসব পণ্য মেলায় আগত দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বসানো পিঠা স্টলটি মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। সেখানে পাটিসাপটা, পাকওয়ান, পুলি পিঠা, ভাপা পিঠা, পায়েস, তিলের কটকটি, নারিকেলের নাড়ু, বিস্কুট পিঠা, ফুল পিঠা, জামাই পিঠা ও ডিম আলুর কাবাবসহ নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা পাওয়া যায়। এ ছাড়া বড়গাছি মহিলা সমবায় সমিতির উদ্যোগে পিঠা, আচার ও সবজির স্টল বসানো হয়েছে। অনিন্দ্য প্রকাশনার মার্কেটিং ম্যানেজার গোলাম কিবরিয়ার উদ্যোগে বসানো বইয়ের স্টলে বিভিন্ন বিষয়ের বই প্রদর্শিত হচ্ছে। বইপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে স্থাপিত স্টলে কৃষিপণ্যের সমাহার ও একটি সেলফি স্ট্যান্ড রাখা হয়েছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের ফসল সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি সেলফি স্ট্যান্ডটি দর্শনার্থীদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে। বিশেষ করে তরুণ দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায় এই স্টলে।

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে বসানো বুটিকস ও হস্তশিল্পের পোশাকের স্টলে নারীদের তৈরি বিভিন্ন নকশার পোশাক প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। উপজেলা পল্লি উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে বসানো দেশজ পণ্যের স্টলে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী নানা সামগ্রী স্থান পেয়েছে।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন– সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. আব্দুল লতিফ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোতাহার হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবু বাশির, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন, বিআরডিবি কর্মকর্তা শামসুন্নাহার, নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুদ্দিন প্রামানিকসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিজয় দিবসের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য প্রদর্শন ও বিপণনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এই বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

তিন দিনব্যাপী এ মেলায় প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।