ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

জাতির বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে জাতির বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এদিন স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধাসহ লাখো মানুষ।

জাতির বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে সৌধস্তম্ভের চূড়া থেকে শুরু করে শহীদ বেদি, পায়ে চলার সড়ক সবখানে ধুয়ে-মুছে চকচকে করা হয়েছে। প্রয়োজন মতো করা হয়েছে রঙ। সৌধের মূল ফটক থেকে বেদি পর্যন্ত হাঁটা পথে লাল ইটের মধ্যে সাদা রঙের ছোঁয়া ছড়াচ্ছে শুভ্রতা।

চত্বরজুড়ে শোভা পাচ্ছে লাল, নীল, বেগুনি, হলুদ, সাদাসহ বিভিন্ন রঙের, বর্ণের ফুলের গাছ। এসব গাছে ফুটে আছে রঙিন ফুল। সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে এসব গাছেরও। নির্দেশক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একেকটি ঝাউগাছ।

সৌধবেদির সামনের অংশে গাছ দিয়ে বানানো হয়েছে জাতীয় পতাকা। লেকের পানিতে নতুন করে রোপণ করা হয়েছে লাল শাপলা।

পুরো জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভেতর ও বাইরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রায় এক মাস সময় ধরে বিভিন্ন কাজ করছি। এখানে কেউ ঝাড়ু দিচ্ছে আবার কেউ গাছের আগাছা ছাঁটছে। এ ছাড়াও রঙতুলির কাজসহ আলোকসজ্জার কাজ করা হচ্ছে।’

জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঝাড়ু দিচ্ছিলেন শেফালী বেগম। তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ পরিষ্কার রাখার জন্য প্রতিদিন এসে ঝাড়ু দিই। এতে আমার অনেক ভালো লাগে। যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, তাদের পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে পারছি। দেশের লোক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখে ভালো বললে আমারও ভালো লাগবে।’

শুধু স্মৃতিসৌধ চত্বরেরই নয়, এর আগে সকাল থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়েকের বিভিন্ন স্থানে চলছে সংস্কারসহ সৌন্দর্যবর্ধণের কাজ। সড়ক ডিভাইডারে নতুন করে রঙকরা হচ্ছে। কিছু অংশে দুটি লেনের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় রোপন করা হচ্ছে ফুলসমেত বিভিন্ন ধরনের গাছ। স্থানটি পরিষ্কারও করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রয়োজন অনুসারে সড়কের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে পিচের আস্তরণ দেয়া হচ্ছে।

সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার খান আনু বলেন, ‘মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে শতাধিক শ্রমিক জাতীয় স্মৃতিসৌধকে বিজয় দিবসের জন্য প্রস্তুতির কাজ চলছে।’

জনগণের জান-মালের নিরাপত্তাসহ জাতীয় স্মৃতিসৌধের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। শনিবার সকালে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঘুরে দেখেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের স্মরণে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে দর্শনার্থীদের জন্য চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া সাভারের আমিনবাজার থেকে শুরু করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি পোশাকে এবং সাদা পোশাকে চার হাজারের বেশি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। তারা সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা, জারি সতর্কতা

জাতির বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

আপডেট সময় : ০২:১০:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে জাতির বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এদিন স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধাসহ লাখো মানুষ।

জাতির বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে সৌধস্তম্ভের চূড়া থেকে শুরু করে শহীদ বেদি, পায়ে চলার সড়ক সবখানে ধুয়ে-মুছে চকচকে করা হয়েছে। প্রয়োজন মতো করা হয়েছে রঙ। সৌধের মূল ফটক থেকে বেদি পর্যন্ত হাঁটা পথে লাল ইটের মধ্যে সাদা রঙের ছোঁয়া ছড়াচ্ছে শুভ্রতা।

চত্বরজুড়ে শোভা পাচ্ছে লাল, নীল, বেগুনি, হলুদ, সাদাসহ বিভিন্ন রঙের, বর্ণের ফুলের গাছ। এসব গাছে ফুটে আছে রঙিন ফুল। সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে এসব গাছেরও। নির্দেশক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একেকটি ঝাউগাছ।

সৌধবেদির সামনের অংশে গাছ দিয়ে বানানো হয়েছে জাতীয় পতাকা। লেকের পানিতে নতুন করে রোপণ করা হয়েছে লাল শাপলা।

পুরো জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভেতর ও বাইরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রায় এক মাস সময় ধরে বিভিন্ন কাজ করছি। এখানে কেউ ঝাড়ু দিচ্ছে আবার কেউ গাছের আগাছা ছাঁটছে। এ ছাড়াও রঙতুলির কাজসহ আলোকসজ্জার কাজ করা হচ্ছে।’

জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঝাড়ু দিচ্ছিলেন শেফালী বেগম। তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ পরিষ্কার রাখার জন্য প্রতিদিন এসে ঝাড়ু দিই। এতে আমার অনেক ভালো লাগে। যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, তাদের পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে পারছি। দেশের লোক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখে ভালো বললে আমারও ভালো লাগবে।’

শুধু স্মৃতিসৌধ চত্বরেরই নয়, এর আগে সকাল থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়েকের বিভিন্ন স্থানে চলছে সংস্কারসহ সৌন্দর্যবর্ধণের কাজ। সড়ক ডিভাইডারে নতুন করে রঙকরা হচ্ছে। কিছু অংশে দুটি লেনের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় রোপন করা হচ্ছে ফুলসমেত বিভিন্ন ধরনের গাছ। স্থানটি পরিষ্কারও করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রয়োজন অনুসারে সড়কের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে পিচের আস্তরণ দেয়া হচ্ছে।

সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার খান আনু বলেন, ‘মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে শতাধিক শ্রমিক জাতীয় স্মৃতিসৌধকে বিজয় দিবসের জন্য প্রস্তুতির কাজ চলছে।’

জনগণের জান-মালের নিরাপত্তাসহ জাতীয় স্মৃতিসৌধের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। শনিবার সকালে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঘুরে দেখেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের স্মরণে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে দর্শনার্থীদের জন্য চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া সাভারের আমিনবাজার থেকে শুরু করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি পোশাকে এবং সাদা পোশাকে চার হাজারের বেশি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। তারা সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।’