ময়মনসিংহ নগরে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে পাঁচতলা একটি ভবন হেলে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ভবনটি সিলগালা করেছে সিটি করপোরেশন। একইসঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বেজমেন্টের কাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গর্ত করা স্থানে মাটি ফেলে গর্ত বন্ধ করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকালে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে এসব নির্দেশ দেন।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, পাইলিং শেষে ১৫তলা ভবন নির্মাণের জন্য খননযন্ত্র দিয়ে গভীর গর্ত থেকে মাটি সরিয়ে নিচ্ছিল ডেভেলপার কোম্পানি। এতে পাশের পাঁচতলা ভবনটির বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। পুরাতন ভবনের পাশে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা না ছেড়ে নতুন ভবনের বেজমেন্ট করায় পাশের ভবন হেলে পড়ে।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় পাঁচতলা ভবনটি হেলে পড়েছিল। খবর পেয়ে রাতের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে দেন। এতে আশপাশের এলাকায়ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার সকাল থেকে ভবনের বাসিন্দারা ভেতর থেকে তাঁদের মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও পরিদর্শন করেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় হেলে পড়া পাঁচতলা ভবনটি সিলগালা করে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বেজমেন্টের কাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন ভবনের জন্য গর্ত করা স্থানে মাটি ফেলে গর্ত বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই ভবন মালিককে নির্মাণের অনুমতির সব ধরনের কাগজপত্র নিয়ে সিটি করপোরেশনে আসতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর গোলকিবাড়ি বাইলেন এলাকায় ইংল্যান্ডপ্রবাসী এস.এম রিয়াজুল আমিনের মালিকানাধীন পাঁচতলা ভবনের পাশে গ্রিনল্যান্ড ডেভেলপার প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ১৫তলা ভবনের বেজমেন্টের কাজ করেছিল। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাশের ভবনটির নিচতলায় ফাটল দেখা দেয়। ফাটল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবনটি হেলতে শুরু করলে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন এসে ভবনের সামনে ভিড় জমান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আবাসিক ভবনের সব বাসিন্দাদের সরিয়ে নেন।
হেলে পড়া পাঁচতলা ভবনের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১১ সালে আমার প্রবাসী ভাই এস.এম রিয়াজুল আমিন পাঁচতলা ভবনটি নির্মাণ করেন। সম্প্রতি পাশের জায়গায় বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে গ্রিনল্যান্ড ডেভেলপার প্রাইভেট লিমিটেড। কিন্তু পাশে জায়গা না রেখে নিয়ম অমান্য করে গর্ত খুঁড়ে বেজমেন্টের কাজ করায় আমাদের ভবনটি হেলে পড়ে ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়।’
এ বিষয়ে গ্রিনল্যান্ড ডেভেলপার প্রাইভেট লিমিটেডের প্রকৌশলী আবু সাঈদ বলেন, ‘গর্ত খুঁড়ে বেজমেন্টে কাজ করায় পাশের ভবন হেলে পড়েনি। অন্য কোনও কারণে হেলে পড়েছে। দায় আমাদের ওপর চাপানো হচ্ছে। তারপরও প্রশাসনের নির্দেশে ভবনটি হেলে পড়া ঠেকাতে মাটি দিয়ে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘পাইলিং শেষে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য খননযন্ত্র দিয়ে গভীর গর্ত থেকে মাটি সরানো হচ্ছিল। এতে পাশের পাঁচতলা ভবনটির বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হেলে পড়া ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় গেট তালাবদ্ধ করা হয়। পুরোনো ভবনের পাশে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা না ছেড়ে নতুন ভবনের বেজমেন্টের কাজ করায় ওই ভবনটিতে ফাটল দেখা দেওয়াসহ হেলে পড়ার ঘটনাটি ঘটে।’
রিপোর্টারের নাম 
























