ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

আমাকে ভালো থাকতে বলে ছেলেটা চলে গেলো, নিহত শান্তিরক্ষী রানার মা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত হন নাটোরের শান্তিরক্ষী মাসুদ রানা। শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার এক মাস আট দিনের মাথায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন তিনি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে লালপুরে পরিবারের কাছে মুত্যুর সংবাদ পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় পুরো এলাকায় খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সবাই শোকাহত হন।

মাসুদ রানা লালপুর উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত সাহার উদ্দিনের ছেলে। পরিবারে মা, স্ত্রী ও আমেনা নামে আট বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার আগে যশোর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত ছিলেন। রানাসহ তারা তিন ভাই সেনাবাহিনীতে আছেন। তিন ভাইয়ের মধ্য মাসুদ রানা সবার বড়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রানা ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তারা তিন ভাই সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। মেজো ভাই মনিরুল ইসলাম ২০১২ সালে এবং ছোট ভাই রনি আলম ২০১৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। রানা গত ৭ নভেম্বর শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়েছিলেন। শনিবার সন্ত্রাসীরা সুদানের আবেই ঘাঁটিতে আক্রমণ করলে রানাসহ বাংলাদেশের ছয় জন শান্তিরক্ষী নিহত হন। এ সময় আট জন শান্তিরক্ষী আহত হন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিয়ার) এসব তথ্য জানায়।

রানার মা মর্জিনা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে ছেলেটাকে মানুষ করেছি। ২১ বছর ধরে আমার সন্তান দেশের জন্য কাজ করছে। আজ দেশের বাইরে গিয়ে মারা গেছে। কীভাবে ভুলবো সন্তানকে। সেদিনও কথা বললো ছেলে। ডিউটিতে কাজের কথা জানতে চাইলে বলতো, মা এখন আর কষ্ট নাই, ডিউটি কম। আমাকে ভালো থাকতে বলে ছেলে নিজেই চলে গেলো।’ 

স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রী আসমাউল হুসনা আঁখিও স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেশীরা জানান, শান্ত ও মিশুক স্বভাবের মানুষ ছিলেন মাসুদ রানা। চাকরি পাওয়ার আগে পরিবারের আর্থিক অবস্থা বেশ খারাপ ছিল। তবে তিন ভাই চাকরি পাওয়ার পর পরিবারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।

রানার ছোট ভাই রনি আলম বলেন, ‘দেশের জন্য আমার ভাই শহীদ হয়েছেন। এই আত্মত্যাগে আমরা গর্বিত। যদিও মৃত্যুশোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।’

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, ‘শান্তিরক্ষী মাসুদ রানার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তার পরিবারের পাশে থাকবে উপজেলা প্রশাসন।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

আমাকে ভালো থাকতে বলে ছেলেটা চলে গেলো, নিহত শান্তিরক্ষী রানার মা

আপডেট সময় : ০৯:১৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত হন নাটোরের শান্তিরক্ষী মাসুদ রানা। শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার এক মাস আট দিনের মাথায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন তিনি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে লালপুরে পরিবারের কাছে মুত্যুর সংবাদ পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় পুরো এলাকায় খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সবাই শোকাহত হন।

মাসুদ রানা লালপুর উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত সাহার উদ্দিনের ছেলে। পরিবারে মা, স্ত্রী ও আমেনা নামে আট বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার আগে যশোর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত ছিলেন। রানাসহ তারা তিন ভাই সেনাবাহিনীতে আছেন। তিন ভাইয়ের মধ্য মাসুদ রানা সবার বড়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রানা ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তারা তিন ভাই সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। মেজো ভাই মনিরুল ইসলাম ২০১২ সালে এবং ছোট ভাই রনি আলম ২০১৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। রানা গত ৭ নভেম্বর শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়েছিলেন। শনিবার সন্ত্রাসীরা সুদানের আবেই ঘাঁটিতে আক্রমণ করলে রানাসহ বাংলাদেশের ছয় জন শান্তিরক্ষী নিহত হন। এ সময় আট জন শান্তিরক্ষী আহত হন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিয়ার) এসব তথ্য জানায়।

রানার মা মর্জিনা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে ছেলেটাকে মানুষ করেছি। ২১ বছর ধরে আমার সন্তান দেশের জন্য কাজ করছে। আজ দেশের বাইরে গিয়ে মারা গেছে। কীভাবে ভুলবো সন্তানকে। সেদিনও কথা বললো ছেলে। ডিউটিতে কাজের কথা জানতে চাইলে বলতো, মা এখন আর কষ্ট নাই, ডিউটি কম। আমাকে ভালো থাকতে বলে ছেলে নিজেই চলে গেলো।’ 

স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রী আসমাউল হুসনা আঁখিও স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেশীরা জানান, শান্ত ও মিশুক স্বভাবের মানুষ ছিলেন মাসুদ রানা। চাকরি পাওয়ার আগে পরিবারের আর্থিক অবস্থা বেশ খারাপ ছিল। তবে তিন ভাই চাকরি পাওয়ার পর পরিবারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।

রানার ছোট ভাই রনি আলম বলেন, ‘দেশের জন্য আমার ভাই শহীদ হয়েছেন। এই আত্মত্যাগে আমরা গর্বিত। যদিও মৃত্যুশোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।’

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, ‘শান্তিরক্ষী মাসুদ রানার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তার পরিবারের পাশে থাকবে উপজেলা প্রশাসন।’