ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

আজকের দিনে পালিয়ে যায় হানাদাররা, মুক্ত হয় সিরাজগঞ্জ

আজ ১৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সিরাজগঞ্জ শহর ছাড়তে বাধ্য হয়। এ দিন মুক্তিযোদ্ধারা শহরে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে উড়িয়ে দেন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। হানাদার মুক্ত হয় সিরাজগঞ্জ।

১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে সিরাজগঞ্জে পাকহানাদার বাহিনীর মনোবল দুর্বল হতে থাকে। তাদের সহযোগী তথাকথিত শান্তি কমিটি এবং রাজাকার ও আল বদরদের সহযোগীরাও সীমিত এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ হতে থাকে। ১৩ ডিসেম্বর রাতে পাকহানাদার বাহিনীকে তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। নিয়ন্ত্রণে নেন স্থল ও নৌপথ। একমাত্র রেলপথ হানাদারদের দখলে থাকে।

পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সিরাজগঞ্জ থেকে ট্রেনযোগে ঈশ্বরদীর দিকে পালিয়ে যায়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রবর্তী বাহিনীও রেকি করতে পাঠানো মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে হানাদারদের পালিয়ে যাওয়ার খবর সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধারা ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি ও ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে ধ্বংস করে ফেলা শহীদ মিনারের পাদদেশে সমবেত হন। এ সময় গর্বিত মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে দেশ গঠনের শপথ নেন।

সিরাজগঞ্জ শহর থেকে পাকহানাদারদের পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বেলকুচি, কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, চৌহালী, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর থানাসহ পুরো জেলা শত্রুমুক্ত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

আজকের দিনে পালিয়ে যায় হানাদাররা, মুক্ত হয় সিরাজগঞ্জ

আপডেট সময় : ০১:৪১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

আজ ১৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সিরাজগঞ্জ শহর ছাড়তে বাধ্য হয়। এ দিন মুক্তিযোদ্ধারা শহরে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে উড়িয়ে দেন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। হানাদার মুক্ত হয় সিরাজগঞ্জ।

১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে সিরাজগঞ্জে পাকহানাদার বাহিনীর মনোবল দুর্বল হতে থাকে। তাদের সহযোগী তথাকথিত শান্তি কমিটি এবং রাজাকার ও আল বদরদের সহযোগীরাও সীমিত এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ হতে থাকে। ১৩ ডিসেম্বর রাতে পাকহানাদার বাহিনীকে তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। নিয়ন্ত্রণে নেন স্থল ও নৌপথ। একমাত্র রেলপথ হানাদারদের দখলে থাকে।

পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সিরাজগঞ্জ থেকে ট্রেনযোগে ঈশ্বরদীর দিকে পালিয়ে যায়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রবর্তী বাহিনীও রেকি করতে পাঠানো মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে হানাদারদের পালিয়ে যাওয়ার খবর সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধারা ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি ও ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে ধ্বংস করে ফেলা শহীদ মিনারের পাদদেশে সমবেত হন। এ সময় গর্বিত মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে দেশ গঠনের শপথ নেন।

সিরাজগঞ্জ শহর থেকে পাকহানাদারদের পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বেলকুচি, কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, চৌহালী, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর থানাসহ পুরো জেলা শত্রুমুক্ত হয়।