চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা গত ১৪ মাসে একাধিক সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের কারণে আতঙ্কের শহরে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ১৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার মধ্যে ১১টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘটিত হয়েছে। বাকি হত্যাগুলো পারিবারিক বিরোধ, চাঁদাবাজি ও দখল নিয়ে সংঘটিত হয়েছে। অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডই প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তবে পুলিশ অধিকাংশ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।
এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী জড়িত, যাদের একাংশ পাড়া-মহল্লায় এবং ইউনিয়নে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। এসব বাহিনীর নেতা-গণ রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে নিজেদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে মোটরসাইকেলে আসা অস্ত্রধারীরা বিএনপি কর্মী মুহাম্মদ আবদুল হাকিমকে হত্যা করে। হত্যার শিকারদের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, বালু ও মাটি ব্যবসা, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, এবং সড়ক-মহল্লায় তাণ্ডব সহ একাধিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
এছাড়া, রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এখানে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ফজল হক বাহিনী, জসিম বাহিনী, কামাল বাহিনী, জানে আলম বাহিনী, রমজান বাহিনী, মামুন বাহিনী এবং বাগোয়ান এলাকার ভূপেশ বাহিনী। এই বাহিনীগুলোর দাপটে পুরো উপজেলা যেন আতঙ্কে ভুগছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না।
গত ১৪ মাসে রাউজান উপজেলায় সংঘর্ষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫টি, আর হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ১৬টি। এই ১৬ হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১১টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যার মধ্যে ৮টি হত্যাকাণ্ডে পরিবার থেকে মামলা করা হলেও তিনটি হত্যাকাণ্ডে পুলিশ মামলা করেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা অত্যন্ত কম, এবং পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য।
রিপোর্টারের নাম 
























