যশোরে বাবার সামনে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ছেলেকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পাগলাদাহ মালোপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিকশাচালক আব্দুস শহিদ (৪৫) পাগলাদাহ এলাকার বশির আহমেদের ছেলে। ছুরিকাঘাতের পর রক্তাক্ত ছেলেকে বাঁচাতে রিকশায় উঠিয়ে হাসপাতালে নেন বাবা। কিন্তু বৃদ্ধ বাবা চেষ্টা করেও ছেলেকে বাঁচাতে পারলেন না। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ বলছে, শহিদের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মাদক সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে একই গ্রামের কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারির সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেঝেতে শহিদের স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা গেছে। এ সময় বশির আহমেদের পুরো শরীর ছেলের রক্তে ভেজা ছিল। সবাই তাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করলেও বাকরুদ্ধ তিনি।
কিছুক্ষণ পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বশির আহমেদ বলেন, ‘আমার তিন ছেলে, তিন মেয়ে। শহিদ সবার বড়। শনিবার সন্ধ্যায় রিকশা চালিয়ে বাসায় ফিরছিল। মালোপাড়া এলাকার আব্দুর রহমানের দোকানের সামনে একই এলাকার জাহাঙ্গীরের চার ছেলে আসিফ, মিরাজ, আলিফ, রিয়াজ এবং মানিক মিয়ার ছেলে ইরানের সঙ্গে কোনও একটা বিষয়ে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। তাদের গন্ডগোল শুনে আমি বাড়ি থেকে বের হই। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দূর থেকে দেখি আসিফ চাকু দিয়ে শহিদের বুকে পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করছে। আশপাশ অনেকে চেয়ে চেয়ে দেখলেও এগিয়ে আসেনি কেউ। আমি দৌড়ে গিয়েও তাদের ঠেকাতে পারিনি। শহিদ মাটিতে পড়ে গেলে আসিফ ও মিরাজরা পালিয়ে যায়। এ অবস্থায় একটি রিকশা ডেকে ছেলেকে তাতে তুলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলেও বাঁচাতে পারিনি।’
শহিদের বোন শাহিদা খাতুন বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার দুপুরে আসিফ ও মিরাজ ও তাদের সহযোগীদের সঙ্গে শহিদের কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তখন তারা ভাইয়ের রিকশা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। শনিবার বিকালে আবার রিকশা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বাধা দিলে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে তারা।’
তাদের মধ্যে কী নিয়ে বিরোধ ছিল জানতে চাইলে শাহিদা খাতুন বলেন, ‘মাঝেমধ্যে তাদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতো শহিদ। আমার ভাইয়ের কাছে কিছু টাকা পাওনা ছিল আসিফ। ওই টাকা নিয়েই বিরোধের সূত্র ধরে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।’
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্রা মল্লিক বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই শহিদ মারা যায়। তার বুকের বাম পাশে ও বুকের ওপরে দুটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে।’
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক কাজী বাবুল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শহিদের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, মাদক সংক্রান্ত বিরোধ ও টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতরা চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তদন্ত করছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে।’
রিপোর্টারের নাম 
























