মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের আলোচিত আরও ১৯টি ছবি প্রকাশ করেছে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ছবিগুলোর তিনটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্পষ্ট উপস্থিতি চিহ্নিত করা গেছে।
হাউজ ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা জানিয়েছেন, এপস্টেইনের সম্পত্তি থেকে সরবরাহ করা ৯৫ হাজারের বেশি ছবি তারা পর্যালোচনা করছেন।
একটি সাদা-কালো ছবিতে ট্রাম্পকে একাধিক নারীর সঙ্গে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে তাকে এপস্টেইনের পাশে দাঁড়িয়ে দেখা যায়। অপেক্ষাকৃত অস্পষ্ট তৃতীয় ছবিতে ট্রাম্পকে এক নারীর পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। ছবিগুলো কবে ও কোথায় তোলা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। এছাড়া, সব ছবিতে নারীদের চেহারা ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে।
এই দফার ছবিগুলোতে সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী স্টিভ ব্যানন, বিল গেটস এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী ল্যারি সামার্সকেও দেখা যায়।
এ বিষয়ে শুক্রবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এপস্টেইনকে সবাই চিনত। তিনি পাম বিচ জুড়ে ঘুরে বেড়াতেন। তার সঙ্গে সবারই ছবি আছে। বলতে গেলে) শত শত মানুষের সঙ্গে তার ছবি রয়েছে। তাই এটা (আমার সঙ্গে ছবি থাকা) তেমন বড় কোনও বিষয় না।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের জন্য ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করেছে। সংবাদমাধ্যমের উচিত ডেমোক্র্যাটদের বক্তব্য পুনরাবৃত্তি না করে জিজ্ঞেস করা—এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও কেন ডেমোক্র্যাটরা তার আশপাশে থাকতে চেয়েছিল।
এপস্টেইন কেলেঙ্কারি গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মার্কিনির ধারণা, প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক আড়াল করেছেন এবং তার মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য গোপন করেছেন। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে এপস্টেইনের মরদেহ পাওয়া যায়, যা আত্মহত্যা বলে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তবে বিচার বিভাগ জুলাই মাসে জানায়, এপস্টেইন মামলায় তৃতীয় কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারা আরও জানায়, কোনও ক্লায়েন্ট তালিকা, যৌন পাচারে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য বা কাউকে ব্ল্যাকমেইল করার প্রমাণও মেলেনি।
১৯৯০-এর দশক ও ২০০০-এর শুরুর দিকে ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে সখ্যতা ছিল। তবে ট্রাম্পের দাবি, যৌন হয়রানি এবং নারী পাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করার আগেই তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর এপস্টেইনের নির্যাতন বা পাচারের বিষয়ে কিছু জানতেন বলে বারবার দাবি করে আসছেন তিনি।
সূত্র: রয়টার্স
রিপোর্টারের নাম 





















