বছরের শুরু থেকেই দেশের নামিদামি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর ওষুধের দাম ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষ, বিশেষত জয়পুরহাটের গ্রামের নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর সবচেয়ে বেশি পড়েছে। ওষুধ কিনতে আসা রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ফার্মেসিতে দাম নিয়ে প্রতিনিয়ত ঝগড়া বা দ্বন্দ্বের ঘটনা ঘটছে। অনেকে অর্থের অভাবে তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কিনতেই পারছেন না।
গত বুধবার জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের রোগী, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, বিভিন্ন কোম্পানি ওষুধের দাম কয়েক দফায় বাড়িয়ে দিয়েছে। নামিদামি কোম্পানিগুলোর মধ্যে স্কয়ার, বেক্সিমকো, ইনসেপ্টা, রেডিয়েন্ট, এসিআই, পপুলার এবং এসকেএফ ইত্যাদির ওষুধের দাম বিশেষভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, স্কয়ারের ব্যথানাশক টোরাক্স -১০ মিলিগ্রামের একটি ট্যাবলেটের দাম যা আগে ১০ টাকা ছিল, তা বেড়ে এখন ২০ টাকা হয়েছে।
ওষুধের লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কালাই উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের সাজ্জাদুর রহমান। তিনি জানান, তাকে প্রতিদিন হিমুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। এর মাসিক খরচ আগের ৩,০০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৫,০০০ টাকারও বেশি হয়ে গেছে। টাকার অভাবে তিনি এখন ইনজেকশন নিতে পারছেন না।
দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী আব্দুল মতিনের চিকিৎসা খরচও অনেক বেড়েছে। তার ছেলে জুয়েল প্রামাণিক জানান, একটি ইনজেকশনের দাম ৬,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৯,৫০০ টাকা হয়েছে। তার বাবাকে মাসে তিনটি ইনজেকশন দিতে হয়। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন দুটি ইনজেকশন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
শহরের বাটার মোড়ের নিউ সওদাগর ফার্মেসির মালিক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, আগেও ওষুধের দাম বেড়েছে, তবে এভাবে বাড়েনি। কোনো কোনো কোম্পানি দাম ডবলও করে দিয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত ওষুধের মূল্য নিয়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা লেগেই থাকছে। অথচ আমাদের কিছু করার নেই। আমরা কোম্পানির দেওয়া দামের ১০ শতাংশ কম মূল্যে ওষুধ বিক্রি করি।
কালাই শহরের শাওন ফার্মেসির মালিক শাহারুল আলম বলেন, অধিকাংশ কোম্পানিই ওষুধের দাম বাড়িয়েছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে রোগীর স্বজনদের সীমাহীন কষ্ট ভোগ করতে হবে।
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জানিয়েছেন, রোগীদের সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ওষুধের অভাবে অনেক সময় রোগীরা অসহায় হয়ে পড়েন।
জেলা ওষুধ পরিদর্শক তোফায়েল আহম্মেদ জানান, ইতোমধ্যে দাম নিয়ন্ত্রণে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন থেকে কোম্পানিগুলো ইচ্ছামতো দাম বাড়াতে পারবে না এবং খুব শিগগিরই সব ওষুধ ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসবে।
ওষুধের দামের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বিশেষ করে গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষদের জীবনযাত্রার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ সীমিত হওয়ায় রোগী ও তাদের পরিবারগুলো বর্তমানে আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে।
রিপোর্টারের নাম 






















