ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুপিয়ানস্ক শহরের একাংশ পুনরুদ্ধার করেছে এবং সেখানে অবস্থান করা রুশ সেনাদের ঘিরে ফেলেছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ। এ অবস্থায় ফ্রন্টলাইনে পরিদর্শনে গিয়ে অভিযানের প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের সফলতা ইউক্রেনের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন সহায়তায় শান্তি প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও মস্কো দাবি করছে, তারা সব ফ্রন্টে আগাচ্ছে এবং কুপিয়ানস্কসহ পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত শহর পোকরোভস্ক দখল করেছে। কিয়েভ এসব দাবি অস্বীকার করে বলছে, লড়াই এখনও চলছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিহিত জেলেনস্কিকে কুপিয়ানস্কে প্রবেশমুখের শহরের নামফলকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, ফ্রন্টলাইনে ফলাফল অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমেই ইউক্রেন কূটনীতিতেও ফল আনতে পারবে।
ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ডের খার্তিয়া কর্পস জানায়, তারা কুপিয়ানস্কের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা মুক্ত করেছে। রুশ বাহিনীর সাপ্লাই রুটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং কয়েক শ রুশ সেনা ঘেরাও অবস্থায় রয়েছে বলে টেলিগ্রামে দাবি করেছে ইউনিটটি।
খার্তিয়া কর্পসের কমান্ডার ইহর ওবোলিয়েনস্কিকে উদ্ধৃত করে ইউক্রাইনস্কা প্রাভদা জানিয়েছে, আজ আমরা বলতে পারি, শহরে অবস্থানকারী রুশ বাহিনী পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। তারা দীর্ঘ সময় বুঝতেই পারেনি কী হচ্ছে। এখন তারা জানে যে, তাদের ঘিরে ফেলা হয়েছে।
ইউক্রেনের এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি রাশিয়া।
ইউক্রেনের ব্যাটলফিল্ড ম্যাপিং প্রকল্প ডিপ স্টেট-এর সর্বশেষ মানচিত্রে কুপিয়ানস্কের উত্তর ও পশ্চিমের অন্তত তিনটি গ্রাম ইউক্রেনীয় নিয়ন্ত্রণে দেখা যাচ্ছে। শহরের উত্তরাঞ্চলও ইউক্রেনীয় বাহিনীর দখলে দেখানো হয়েছে এবং মানচিত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, রুশ সেনারা শহরের কেন্দ্র এলাকায় ঘিরে ফেলা অবস্থায় রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নভেম্বরে রুশ অগ্রগতি এ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত ছিল। ওই সময় তারা ছোট ছোট গ্রাম দখল করে এগোচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাশিয়া দাবি করেছে, তারা পূর্বাঞ্চলের সিভেরস্ক শহর দখল করেছে। কিয়েভ বলছে, শহরটি এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















