ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

প্লাস্টিক দূষণ রোধে শক্তিশালী বৈশ্বিক উদ্যোগের দাবি বাংলাদেশের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

প্লাস্টিক দূষণ রোধে একটি শক্তিশালী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং বাধ্যতামূলক বৈশ্বিক চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় দীর্ঘসূত্রতা চলতে থাকলে বৈশ্বিক পরিবেশ সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠবে।

কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ পরিবেশ সম্মেলনের (ইউএনইএ-৭) ৭ম অধিবেশনে “হাই অ্যাম্বিশন কোয়ালিশন টু এন্ড প্লাস্টিক পলিউশন” শীর্ষক মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্মেলনেড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা বাংলাদেশ বহুদিন ধরে বহন করছে—জলাশয় ভরাট হওয়া থেকে শুরু করে মাটি ও খাদ্যশৃঙ্খল দূষণ পর্যন্ত।”

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছে, যা দেখিয়েছে—নৈতিক অঙ্গীকার ও শক্ত নীতি থাকলে পরিবর্তন সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের জাতীয় উদ্যোগ এখন বৈশ্বিক প্লাস্টিক দূষণবিরোধী প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” প্রস্তাবিত বৈশ্বিক চুক্তিটি যেন উৎপাদন থেকে শুরু করে রাসায়নিক উপাদান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পরিবেশগত ন্যায়বিচার—সবকিছুই প্লাস্টিকের পুরো জীবনচক্রের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনে, সেই দাবি জানান তিনি।

বিচ্ছিন্ন জাতীয় উদ্যোগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে সচিব বলেন, “কার্যকর ও বাধ্যতামূলক বৈশ্বিক ব্যবস্থার সর্বোত্তম সুযোগ হলো এই প্লাস্টিক চুক্তি। এমন একটি চুক্তি প্রয়োজন যা প্লাস্টিক উৎপাদন কমাবে, ক্ষতিকর রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর নিশ্চিত করবে।”

আলোচনায় অগ্রগতির ধীরগতি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি বলেন, “আলোচনা দ্রুততর করতে হবে, খসড়া আরও স্পষ্ট করতে হবে এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি জোরদার করতে হবে। তার ভাষায়—প্রতিটি দীর্ঘসূত্রতা মানে আরও এক বছর অনিয়ন্ত্রিত দূষণ, যা পৃথিবীও সহ্য করতে পারবে না, বাংলাদেশও নয় “

ড. ফারহিনা আহমেদ জানান, , বহু বছরের অভিজ্ঞতা এবং মানুষ, নদী, প্রতিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার দায়বদ্ধতা থেকেই বাংলাদেশের অবস্থান গড়ে উঠেছে।

বৈঠকে পরিবেশ অধিদফরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হকও উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁরা “টক্সিক স্কিন ব্লিচিং: আ গ্রোয়িং গ্লোবাল হেল্থ থ্রেট” শীর্ষক আরেকটি অধিবেশনেও অংশ নেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোহাম্মদপুরে নির্মাণাধীন ভবনে মালামাল পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

প্লাস্টিক দূষণ রোধে শক্তিশালী বৈশ্বিক উদ্যোগের দাবি বাংলাদেশের

আপডেট সময় : ১০:২৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

প্লাস্টিক দূষণ রোধে একটি শক্তিশালী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং বাধ্যতামূলক বৈশ্বিক চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় দীর্ঘসূত্রতা চলতে থাকলে বৈশ্বিক পরিবেশ সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠবে।

কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ পরিবেশ সম্মেলনের (ইউএনইএ-৭) ৭ম অধিবেশনে “হাই অ্যাম্বিশন কোয়ালিশন টু এন্ড প্লাস্টিক পলিউশন” শীর্ষক মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্মেলনেড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা বাংলাদেশ বহুদিন ধরে বহন করছে—জলাশয় ভরাট হওয়া থেকে শুরু করে মাটি ও খাদ্যশৃঙ্খল দূষণ পর্যন্ত।”

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছে, যা দেখিয়েছে—নৈতিক অঙ্গীকার ও শক্ত নীতি থাকলে পরিবর্তন সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের জাতীয় উদ্যোগ এখন বৈশ্বিক প্লাস্টিক দূষণবিরোধী প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” প্রস্তাবিত বৈশ্বিক চুক্তিটি যেন উৎপাদন থেকে শুরু করে রাসায়নিক উপাদান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পরিবেশগত ন্যায়বিচার—সবকিছুই প্লাস্টিকের পুরো জীবনচক্রের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনে, সেই দাবি জানান তিনি।

বিচ্ছিন্ন জাতীয় উদ্যোগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে সচিব বলেন, “কার্যকর ও বাধ্যতামূলক বৈশ্বিক ব্যবস্থার সর্বোত্তম সুযোগ হলো এই প্লাস্টিক চুক্তি। এমন একটি চুক্তি প্রয়োজন যা প্লাস্টিক উৎপাদন কমাবে, ক্ষতিকর রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর নিশ্চিত করবে।”

আলোচনায় অগ্রগতির ধীরগতি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি বলেন, “আলোচনা দ্রুততর করতে হবে, খসড়া আরও স্পষ্ট করতে হবে এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি জোরদার করতে হবে। তার ভাষায়—প্রতিটি দীর্ঘসূত্রতা মানে আরও এক বছর অনিয়ন্ত্রিত দূষণ, যা পৃথিবীও সহ্য করতে পারবে না, বাংলাদেশও নয় “

ড. ফারহিনা আহমেদ জানান, , বহু বছরের অভিজ্ঞতা এবং মানুষ, নদী, প্রতিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার দায়বদ্ধতা থেকেই বাংলাদেশের অবস্থান গড়ে উঠেছে।

বৈঠকে পরিবেশ অধিদফরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হকও উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁরা “টক্সিক স্কিন ব্লিচিং: আ গ্রোয়িং গ্লোবাল হেল্থ থ্রেট” শীর্ষক আরেকটি অধিবেশনেও অংশ নেন।