ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

মেক্সিকোতে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৩০ ছাড়াতে পারে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

মেক্সিকোতে গত সপ্তাহে প্রবল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ৬৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আরও ৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে তারাও মারা গেছেন। একটি ক্রান্তীয় নিম্নচাপের প্রভাবে দেশটির উপসাগরীয় উপকূল ও মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক ভূমিধস ও বন্যা দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।

জাতীয় নাগরিক সুরক্ষা সমন্বয়ক লরা ভেলাসকেজ জানিয়েছেন, হিদালগো ও ভেরাক্রুজ রাজ্য দুটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেরাক্রুজে ২৯ জনের মৃত্যু এবং ১৮ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, হিদালগোতে ২১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং ৪৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নামহীন এই নিম্নচাপটি বর্ষা মৌসুমের একেবারে শেষ দিকে আঘাত হানে, যখন কয়েক মাসের টানা বৃষ্টিতে মাটি আগেই ভিজে দুর্বল হয়ে ছিল এবং নদীগুলো ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। এর পাশাপাশি আবহাওয়াবিদরা প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে সক্রিয় দুটি হারিকেন এবং একাধিক ঝড়ের গতিবিধির ওপরও নজর রাখছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই বৃষ্টিপাত এতটা তীব্র হবে বলে আমরা আশা করিনি।’

মেক্সিকোর নৌবাহিনীর সচিব অ্যাডমিরাল রাইমুন্দো মোরালেস জানান, উষ্ণ ও শীতল বায়ুপ্রবাহের সংঘর্ষের ফলে এই বন্যা সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে নদীগুলোর পানি উপচে পড়েছে এবং মাসের পর মাসের বৃষ্টিতে দুর্বল হয়ে পড়া পাহাড়গুলিতে ভূমিধস ঘটেছে।

শেইনবাউম জানিয়েছেন, বন্যায় প্রায় এক লাখ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে পুনর্গঠন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক করবেন। এছাড়া তিনি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কিছু রাজ্য পরিদর্শনে যাবেন।

বৃষ্টির কারণে বহু সেতুসহ অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং রাস্তাঘাট কাদায় ভরে গেছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা কোমরসমান পানির মধ্যে হেঁটে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করছেন এবং দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন।

সরকার জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চালানো এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজে হাজার হাজার উদ্ধারকর্মীকে নিয়োগ করা হয়েছে।

যে পাঁচটি রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল, তার বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ইতোমধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তারা এখন জমে থাকা পানিতে জন্ম নেওয়া ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধেও কাজ শুরু করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেট বক্তৃতায় সময়সীমা অতিক্রম, স্পিকারের পরামর্শ: ‘বাকি কথা টকশোতে বলুন’

মেক্সিকোতে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৩০ ছাড়াতে পারে

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

মেক্সিকোতে গত সপ্তাহে প্রবল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ৬৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আরও ৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে তারাও মারা গেছেন। একটি ক্রান্তীয় নিম্নচাপের প্রভাবে দেশটির উপসাগরীয় উপকূল ও মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক ভূমিধস ও বন্যা দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।

জাতীয় নাগরিক সুরক্ষা সমন্বয়ক লরা ভেলাসকেজ জানিয়েছেন, হিদালগো ও ভেরাক্রুজ রাজ্য দুটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেরাক্রুজে ২৯ জনের মৃত্যু এবং ১৮ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, হিদালগোতে ২১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং ৪৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নামহীন এই নিম্নচাপটি বর্ষা মৌসুমের একেবারে শেষ দিকে আঘাত হানে, যখন কয়েক মাসের টানা বৃষ্টিতে মাটি আগেই ভিজে দুর্বল হয়ে ছিল এবং নদীগুলো ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। এর পাশাপাশি আবহাওয়াবিদরা প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে সক্রিয় দুটি হারিকেন এবং একাধিক ঝড়ের গতিবিধির ওপরও নজর রাখছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই বৃষ্টিপাত এতটা তীব্র হবে বলে আমরা আশা করিনি।’

মেক্সিকোর নৌবাহিনীর সচিব অ্যাডমিরাল রাইমুন্দো মোরালেস জানান, উষ্ণ ও শীতল বায়ুপ্রবাহের সংঘর্ষের ফলে এই বন্যা সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে নদীগুলোর পানি উপচে পড়েছে এবং মাসের পর মাসের বৃষ্টিতে দুর্বল হয়ে পড়া পাহাড়গুলিতে ভূমিধস ঘটেছে।

শেইনবাউম জানিয়েছেন, বন্যায় প্রায় এক লাখ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে পুনর্গঠন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক করবেন। এছাড়া তিনি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কিছু রাজ্য পরিদর্শনে যাবেন।

বৃষ্টির কারণে বহু সেতুসহ অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং রাস্তাঘাট কাদায় ভরে গেছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা কোমরসমান পানির মধ্যে হেঁটে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করছেন এবং দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন।

সরকার জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চালানো এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজে হাজার হাজার উদ্ধারকর্মীকে নিয়োগ করা হয়েছে।

যে পাঁচটি রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল, তার বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ইতোমধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তারা এখন জমে থাকা পানিতে জন্ম নেওয়া ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধেও কাজ শুরু করেছে।