ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বারোমাসি লাউয়ের নতুন জাত উদ্ভাবন, কম খরচে বেশি লাভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৮:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

লাউয়ের চারা রোপণের ৭০-৮০ দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে ফলন। বছরের বারমাসই ধরবে। দেশের সব এলাকায় চাষাবাদ করা যাবে। প্রতি হেক্টরে ফলন হবে ৮০-৮৫ টন। কম খরচে বেশি লাভবান হবেন চাষিরা। এমন নতুন লাউয়ের জাত উদ্ভাবন করেছেন রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। নতুন জাতটির নাম দেওয়া হয়েছে বারি লাউ-৪।

গবেষণাকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা জানান, এই জাতের লাউয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তাপ সহনশীল এবং সারা বছর চাষ করা যায়। দেশের সব এলাকার পাশাপাশি পাহাড়ে চাষ সবচেয়ে বেশি উপযোগী। গ্রীষ্মকালে ফাগুনের শেষে আগাম ফসল হিসেবে আবাদ করা যাবে। চারা রোপণের ৭০-৮০ দিনেই ফলন সংগ্রহ করা যায়। প্রতি হেক্টরে হবে ৮০-৮৫ টন। জাতটি তাপসহিষ্ণু হওয়ায় সারা বছর চাষ করে লাভবান হতে পারবেন কৃষকরা।

সাধারণত দেশে বিদ্যমান মৌসুমি লাউয়ের চারা লাগানোর ৭০-৯০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। তবে কিছু জাত ৭০ দিনের মধ্যে ফলন দিতে শুরু করে। আবার বারির জাতগুলোর ফলন পেতে প্রায় ৯০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। নতুন জাতটি সারা বছর চাষ করা যাবে; এতে ফলনও বেশি হবে। আবাদে খরচও কম হবে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, নতুন জাতের লাউ চাষ করতে পারলে তারা বেশ লাভবান হতে পারবেন। রাইখালী ইউনিয়নের কৃষক পাইদো অং মারমা বলেন, ‘গত অক্টোবর মাসের শেষ দিকে আমি এই গবেষণাকেন্দ্র থেকে বারি লাউ-৪-এর বীজ নিয়েছি। তারা আমাকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দিয়েছে। এক বিঘা জমিতে চাষ করেছি। বর্তমানে গাছগুলো অনেক বড় হয়েছে। আশা করছি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ফলন হবে।’

এ ব্যাপারে কাপ্তাইয়ের রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বারি লাউ-৪ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তাপ সহনশীল এবং সারা বছর চাষ করা যায়। পার্বত্য অঞ্চলে চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী একটি জাত। এ ছাড়া দেশের সব স্থানে চাষ করা যাবে। গাঢ় সবুজ রঙের ফলের গায়ে সাদাটে দাগ থাকবে। গাছ প্রতি ১০-১২টি ফল পাওয়া যায় এবং ফলের গড় ওজন ২ দশমিক ৫ কেজি। লম্বায় ৪২-৪৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ১২-১৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। জীবনকাল ১৩০-১৫০ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন হয় ৮০ হতে ৮৫ টন। গ্রীষ্মকালে চাষের জন্য ফাল্গুনের শেষে আগাম ফসল হিসেবে আবাদ করা যায়। চৈত্র মাসে বীজ বপন করে বৈশাখ মাসে চারা রোপণ করা যায়।’

পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষিতে অনন্য ভূমিকা রাখছে। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গবেষণাকেন্দ্র ইতিমধ্যে ২১টি সবজি এবং ফলের জাত উদ্ভাবন করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারাগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর আলু ক্ষেত থেকে ইলেকট্রিশিয়ানের মরদেহ উদ্ধার

বারোমাসি লাউয়ের নতুন জাত উদ্ভাবন, কম খরচে বেশি লাভ

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

লাউয়ের চারা রোপণের ৭০-৮০ দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে ফলন। বছরের বারমাসই ধরবে। দেশের সব এলাকায় চাষাবাদ করা যাবে। প্রতি হেক্টরে ফলন হবে ৮০-৮৫ টন। কম খরচে বেশি লাভবান হবেন চাষিরা। এমন নতুন লাউয়ের জাত উদ্ভাবন করেছেন রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। নতুন জাতটির নাম দেওয়া হয়েছে বারি লাউ-৪।

গবেষণাকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা জানান, এই জাতের লাউয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তাপ সহনশীল এবং সারা বছর চাষ করা যায়। দেশের সব এলাকার পাশাপাশি পাহাড়ে চাষ সবচেয়ে বেশি উপযোগী। গ্রীষ্মকালে ফাগুনের শেষে আগাম ফসল হিসেবে আবাদ করা যাবে। চারা রোপণের ৭০-৮০ দিনেই ফলন সংগ্রহ করা যায়। প্রতি হেক্টরে হবে ৮০-৮৫ টন। জাতটি তাপসহিষ্ণু হওয়ায় সারা বছর চাষ করে লাভবান হতে পারবেন কৃষকরা।

সাধারণত দেশে বিদ্যমান মৌসুমি লাউয়ের চারা লাগানোর ৭০-৯০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। তবে কিছু জাত ৭০ দিনের মধ্যে ফলন দিতে শুরু করে। আবার বারির জাতগুলোর ফলন পেতে প্রায় ৯০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। নতুন জাতটি সারা বছর চাষ করা যাবে; এতে ফলনও বেশি হবে। আবাদে খরচও কম হবে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, নতুন জাতের লাউ চাষ করতে পারলে তারা বেশ লাভবান হতে পারবেন। রাইখালী ইউনিয়নের কৃষক পাইদো অং মারমা বলেন, ‘গত অক্টোবর মাসের শেষ দিকে আমি এই গবেষণাকেন্দ্র থেকে বারি লাউ-৪-এর বীজ নিয়েছি। তারা আমাকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দিয়েছে। এক বিঘা জমিতে চাষ করেছি। বর্তমানে গাছগুলো অনেক বড় হয়েছে। আশা করছি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ফলন হবে।’

এ ব্যাপারে কাপ্তাইয়ের রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বারি লাউ-৪ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তাপ সহনশীল এবং সারা বছর চাষ করা যায়। পার্বত্য অঞ্চলে চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী একটি জাত। এ ছাড়া দেশের সব স্থানে চাষ করা যাবে। গাঢ় সবুজ রঙের ফলের গায়ে সাদাটে দাগ থাকবে। গাছ প্রতি ১০-১২টি ফল পাওয়া যায় এবং ফলের গড় ওজন ২ দশমিক ৫ কেজি। লম্বায় ৪২-৪৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ১২-১৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। জীবনকাল ১৩০-১৫০ দিন। হেক্টর প্রতি ফলন হয় ৮০ হতে ৮৫ টন। গ্রীষ্মকালে চাষের জন্য ফাল্গুনের শেষে আগাম ফসল হিসেবে আবাদ করা যায়। চৈত্র মাসে বীজ বপন করে বৈশাখ মাসে চারা রোপণ করা যায়।’

পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষিতে অনন্য ভূমিকা রাখছে। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গবেষণাকেন্দ্র ইতিমধ্যে ২১টি সবজি এবং ফলের জাত উদ্ভাবন করেছে।