মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৭:১০ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

চুয়াডাঙ্গায় তরুণদের হাত ধরে কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব: বিদেশি ফল চাষে সাফল্য

  • হালনাগাদ সময় : ০৮:৫৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গার তরুণ উদ্যোক্তারা সনাতন পদ্ধতির কৃষিকে পেছনে ফেলে বিদেশি ও উচ্চমূল্যের ফল-ফসল চাষে ঝুঁকে পড়ছেন, যা জেলার কৃষিতে এক নতুন দিনের সূচনা করেছে। প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে প্রবাসী ও শিক্ষিত তরুণরা বাণিজ্যিক কৃষিতে নেমে এসে শুধু নিজেদের ভাগ্যই নয়, দেশের কৃষির রূপরেখাও বদলে দিচ্ছেন।

প্রান্তিক কৃষক সজল আহমেদ ২০০৯ সালে সাত বিঘা জমি বন্দোবস্ত নিয়ে বরই ও পেয়ারার বাগান শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর ১৩৯ বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি প্রায় ৫৫০ প্রজাতির ফলের মিশ্র বাগান রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭ প্রজাতির মাল্টা-কমলা, ১০৬ প্রজাতির আমসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও ১,২০০ প্রকারের ফলের চারা রয়েছে তাঁর নার্সারিতে। চলতি উৎপাদন মৌসুমেই খরচ বাদে তিনি অন্তত এক কোটি টাকা লাভ করেছেন এবং সেখানে নিয়মিত ৪২ জন কর্মচারী কাজ করেন। সজল মনে করেন, শিক্ষিত তরুণেরা বাণিজ্যিক ফল উৎপাদনে এলে বেকার সমস্যার সমাধান হবে এবং দেশে ফলকেন্দ্রিক অ্যাগ্রো ট্যুরিজম গড়ে উঠবে।

এছাড়াও, সদর উপজেলার গহেরপুর গ্রামের প্রবাসী দুই ভাই রবিউল ইসলাম ও উজ্জ্বল হোসেন বিদেশে যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তাঁরা ২০ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করছেন এবং চলতি বছরের সব ধরনের খরচ বাদ দিয়ে ২৭ লাখ টাকা নিট লাভ করেছেন।

বুজরুকগড়গড়ি এলাকার কৃষিবিদ আব্দুল কাদির সোহান লেখাপড়া শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে ২০১৭ সালে ৫০ হাজার টাকা ও দুই বিঘা জমি দিয়ে মনোমিলা গার্ডেন অ্যান্ড নার্সারি নামের সমন্বিত কৃষি খামার শুরু করেন, যা বর্তমানে ৩৫ বিঘা জমিতে বিস্তৃত। তাঁর খামারে ফল, সবজি চাষের পাশাপাশি মাছ ও উন্নত জাতের গরু পালন করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ের তথ্যমতে, তরুণদের আগ্রহের কারণে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ফলের আবাদ বেড়েছে ৮,০৫৪ হেক্টর থেকে ৮,৩০১ হেক্টরে, এবং ফলন বেড়েছে প্রায় ২১ হাজার মেট্রিক টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, তরুণেরা ঝুঁকি নিয়ে নতুন ফল-ফসলের আবাদে মনোনিবেশ করছেন, যা কৃষিতে ইতিবাচক দিক। কৃষিবিদ হামিদুর রহমান বলেন, তরুণেরা উচ্চমূল্যের ফল ফসলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় পুষ্টির জোগান বাড়ছে এবং কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রমিক প্রতিনিধি পেলেই দ্রুততম সময়ে মজুরি বোর্ডের গেজেট: শ্রমমন্ত্রী

27 October 2026

ইউক্রেনে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি শুরু, মানবিক সহায়তার পথ সুগম

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

চুয়াডাঙ্গায় তরুণদের হাত ধরে কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব: বিদেশি ফল চাষে সাফল্য

হালনাগাদ সময় : ০৮:৫৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গার তরুণ উদ্যোক্তারা সনাতন পদ্ধতির কৃষিকে পেছনে ফেলে বিদেশি ও উচ্চমূল্যের ফল-ফসল চাষে ঝুঁকে পড়ছেন, যা জেলার কৃষিতে এক নতুন দিনের সূচনা করেছে। প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে প্রবাসী ও শিক্ষিত তরুণরা বাণিজ্যিক কৃষিতে নেমে এসে শুধু নিজেদের ভাগ্যই নয়, দেশের কৃষির রূপরেখাও বদলে দিচ্ছেন।

প্রান্তিক কৃষক সজল আহমেদ ২০০৯ সালে সাত বিঘা জমি বন্দোবস্ত নিয়ে বরই ও পেয়ারার বাগান শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর ১৩৯ বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি প্রায় ৫৫০ প্রজাতির ফলের মিশ্র বাগান রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭ প্রজাতির মাল্টা-কমলা, ১০৬ প্রজাতির আমসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও ১,২০০ প্রকারের ফলের চারা রয়েছে তাঁর নার্সারিতে। চলতি উৎপাদন মৌসুমেই খরচ বাদে তিনি অন্তত এক কোটি টাকা লাভ করেছেন এবং সেখানে নিয়মিত ৪২ জন কর্মচারী কাজ করেন। সজল মনে করেন, শিক্ষিত তরুণেরা বাণিজ্যিক ফল উৎপাদনে এলে বেকার সমস্যার সমাধান হবে এবং দেশে ফলকেন্দ্রিক অ্যাগ্রো ট্যুরিজম গড়ে উঠবে।

এছাড়াও, সদর উপজেলার গহেরপুর গ্রামের প্রবাসী দুই ভাই রবিউল ইসলাম ও উজ্জ্বল হোসেন বিদেশে যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তাঁরা ২০ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করছেন এবং চলতি বছরের সব ধরনের খরচ বাদ দিয়ে ২৭ লাখ টাকা নিট লাভ করেছেন।

বুজরুকগড়গড়ি এলাকার কৃষিবিদ আব্দুল কাদির সোহান লেখাপড়া শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে ২০১৭ সালে ৫০ হাজার টাকা ও দুই বিঘা জমি দিয়ে মনোমিলা গার্ডেন অ্যান্ড নার্সারি নামের সমন্বিত কৃষি খামার শুরু করেন, যা বর্তমানে ৩৫ বিঘা জমিতে বিস্তৃত। তাঁর খামারে ফল, সবজি চাষের পাশাপাশি মাছ ও উন্নত জাতের গরু পালন করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ের তথ্যমতে, তরুণদের আগ্রহের কারণে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ফলের আবাদ বেড়েছে ৮,০৫৪ হেক্টর থেকে ৮,৩০১ হেক্টরে, এবং ফলন বেড়েছে প্রায় ২১ হাজার মেট্রিক টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, তরুণেরা ঝুঁকি নিয়ে নতুন ফল-ফসলের আবাদে মনোনিবেশ করছেন, যা কৃষিতে ইতিবাচক দিক। কৃষিবিদ হামিদুর রহমান বলেন, তরুণেরা উচ্চমূল্যের ফল ফসলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় পুষ্টির জোগান বাড়ছে এবং কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Share this news as a Photo Card