রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় বার্ষিক আয়োজন ‘১২তম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা ২০২৫’। এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা চলবে আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে কেন্দ্রের ‘হল অব ফেম’-এ এর উদ্বোধন করেন সরকারের শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন মো. মুসফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান, এনডিসি, এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদের সদস্য ও উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিয়র অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাসরুর আরেফিন। স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সামিম আহমেদ।
উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাঠামোগত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের ওপর জোর
উদ্বোধনী বক্তব্যে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন রফতানি বাজার খুঁজে বের করাও সময়ের দাবি। কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি— এ বিষয়ে নিয়মিত অনুসন্ধান জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘এসএমই খাতকে গতিশীল করতে ফাউন্ডেশনকে আধুনিক, গবেষণাভিত্তিক এবং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে।’
৬ উদ্যোক্তার হাতে ‘জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার ২০২৫’
অনুষ্ঠানে ৬ ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরা উদ্যোক্তাদের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও চেক তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন— মাইক্রো (নারী): জুয়েনা ফেরদৌস (আহ্লাদ ফ্যাশনস); মাইক্রো (পুরুষ): মো. ওয়াহিদুজ্জামান (রিবানা); ক্ষুদ্র (নারী): মোছা. সিরাজুম মুনিরা (সুতার কাব্য); ক্ষুদ্র (পুরুষ): আমান উল্লাহ (আমান প্লাস্টিক টয়েজ ইন্ডাস্ট্রিজ); মাঝারি (পুরুষ): কাজী মো. মনির হোসেন (অপরাজেয়); স্টার্টআপ: মো. মহফুজুল হক (ডুবোটেক ডিজিটাল)।
তিনশ’টির বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ
মেলায় অংশ নিয়েছে প্রায় ৩৫০টির বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান, যার ৬০ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা।
খাতভিত্তিক স্টলের সংখ্যা— তৈরি পোশাক ৭৪, হস্ত ও কারুশিল্প ৫৪, পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য ৪০, পাটজাত ৩৫, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য ২৮, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ১৩, জুয়েলারি ৯, প্রসাধনী ৭, আইটি সেবা ৫, হারবাল ৫, ইলেকট্রনিক্স ৩, ফার্নিচার ৩। এছাড়া অন্যান্য খাতের ১১টি স্টল রয়েছে।
মেলায় অংশ নিচ্ছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন আটটি সংস্থাসহ সরকারি আরও ১৫টি প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ৩০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। প্রধান পৃষ্ঠপোষক সিটি ব্যাংক; পাশাপাশি স্পন্সর হিসেবে আছে ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আইডিএলসি, লংকাবাংলা, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স ও আইপিডিসি।
ব্যাংকার-উদ্যোক্তা সংযোগ ও ঋণ আবেদন
প্রতিদিন মেলায় অনুষ্ঠিত হবে কর্মশালা, প্রশিক্ষণ এবং ব্যাংকার–উদ্যোক্তা সংযোগ অনুষ্ঠান। উদ্যোক্তারা সরাসরি ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য নিতে ও চাইলে মেলা থেকেই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
উইন্ডি টাউন হলে ৮–১০ ডিসেম্বর ছয়টি সেমিনার
মেলায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা, রফতানি সম্ভাবনা এবং পণ্যের মানোন্নয়ন বিষয়ে ৬টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. ‘অটোমেটেড ইনোভেশন: শেপিং আপ দ্য সিএমএসএমই জার্নি’— ৮ ডিসেম্বর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে; প্রধান অতিথি আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, এনডিসি
২. ‘রফতানি বহুমুখীকরণে নারী উদ্যোক্তাদের ভূমিকা’—৮ ডিসেম্বর বিকাল ৩টা (অন্য ৪টি সেমিনারের সূচি একইভাবে অনুষ্ঠিত হবে)
দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত
৭–১৪ ডিসেম্বর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রবেশ ফি ছাড়াই দর্শনার্থীরা মেলা উপভোগ করতে পারবেন। বিদেশি/আমদানি করা পণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ।
মেলা প্রাঙ্গণে রয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশনের অস্থায়ী কার্যালয় এবং সাংবাদিকদের জন্য মিডিয়া সেন্টার।
রিপোর্টারের নাম 























