পঞ্চগড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলমের নেতৃত্বে আয়োজিত লংমার্চের সমাপনী পথসভায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করার পর, এ ঘটনায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)।
সংস্থাটি জোর দিয়ে বলছে যে, ওই সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটটি ছিল সম্পূর্ণভাবে ‘কারিগরি ত্রুটিজনিত’ একটি ঘটনা।
পঞ্চগড় নেসকোর ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, ‘শনিবার (১১ অক্টোবর) রাত ৯টা ২০ মিনিটে পঞ্চগড় পৌর শহরের বৈশাখী মোড় এলাকায় আমাদের একটি লাইনে আগুন লেগে যায়। বিষয়টি বোঝার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্রুত লাইনটি বন্ধ করি। এরপর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রাত ৯টা ২৮ মিনিটে সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়। অর্থাৎ মাত্র আট মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমাদের আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত কারিগরি সমস্যা ছিল।’
স্থানীয় বাসিন্দা সায়েম সরকার ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘তখন আমি বাড়িতে খেতে বসেছিলাম। হঠাৎ বাইরে চিৎকার শুনে দেখি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের তারে আগুন লেগেছে। আমরা বাইরে বের হয়ে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করি। তারা সঙ্গে সঙ্গে লাইন বন্ধ করে দেয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সংযোগ আবার চালু করে। পরে নেসকোর কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসে।’
নেসকোর দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের বিদ্যুৎ বিভ্রাটটি ছিল বৈশাখী মোড়ে ট্রান্সফরমারের লাইনে আগুন লাগার কারণে সৃষ্ট কারিগরি ত্রুটি, যা দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে মাত্র আট মিনিটের মধ্যে স্বাভাবিক করা হয়।
এদিকে, শনিবার রাতে পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গী মোড়ের জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে ১৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ লংমার্চ শেষে সারজিস আলম সমাপনী বক্তব্য দিচ্ছিলেন। বক্তব্য চলাকালীন হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে তিনি প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘আমি নেসকো এবং এর সংশ্লিষ্ট সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি, এনসিপি গত এক মাসে তিনটি কর্মসূচি করেছে এবং প্রতিবারই কর্মসূচির সময় বিদ্যুৎ চলে গেছে। এক-দুই দিন হলে অন্যভাবে দেখতাম, কিন্তু প্রতিবার একই ঘটনা ঘটায় আমরা মনে করি, এটি কোনো কাকতালীয় ব্যাপার নয়। আপনারা রাজনৈতিক দেউলিয়া, চাটুকার ও তোষামোদকারী। এই রাজনৈতিক দেউলিয়াদের আমরা দেখে নেব তাদের কলিজা কত বড় হয়েছে, প্রয়োজনে সেই কলিজা ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে রাখব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ এখান থেকে ঘোষণা দিচ্ছি, পঞ্চগড়ে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক আচরণ করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান এই জেলায় টিকে থাকতে পারবে না। এটা আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার। যারা দায়িত্বে থেকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে, তারা নিজেরাই এখন আখের গোছানো শুরু করুক। পঞ্চগড় কোনো পক্ষপাতদুষ্টদের জায়গা নয়।’
সারজিস আলমের অভিযোগ, ‘যখনই কেউ চাঁদাবাজ, দখলদার, মাদক ব্যবসায়ী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তখনই তাদের বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলছি, পঞ্চগড়ের মাটিতে এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের আর শান্তির ঘুম হবে না। সময়ের অপেক্ষা মাত্র।’
রিপোর্টারের নাম 























