প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় নির্মিত বর্ণি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি উদ্বোধনের প্রায় ছয় বছর পরও কার্যকরভাবে চালু হয়নি। জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা কার্যত বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটি এখন গরু-ছাগলের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। উদ্বোধনের সময় এলাকাবাসীর যে স্বপ্ন ছিল—কাছেই মিলবে চিকিৎসা, তা এখন অনেকটাই ম্লান।
২০২০ সালের নভেম্বর মাসে কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হলেও অধিকাংশ সময় ভবনটি তালাবদ্ধ থাকে। অযত্ন ও অব্যবস্থাপনার ফলে সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন ও আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যেখানে রোগী ও স্বজনদের আনাগোনা থাকার কথা, সেখানে এখন অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে গরু-ছাগল। ভবনের সামনে ও প্রবেশপথে জন্মেছে আগাছা এবং বিভিন্ন স্থানে জমেছে আবর্জনা। দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের দেয়ালের রঙও বিবর্ণ হয়ে গেছে।
বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটিতে চারটি পদের মধ্যে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও আয়া—এই দুটি পদে জনবল অনুমোদিত হয়েছে। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও এমএলএসএস পদ দুটি এখনো অনুমোদন করা হয়নি। সম্প্রতি উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নজরুল ইসলামকে বর্ণি ও নিজবাহাদুরপুর—দুটি কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তাঁর সপ্তাহে দুই দিন বর্ণি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিনি সপ্তাহে এক দিনের বেশি কেন্দ্রে আসেন না, আবার কোনো কোনো সপ্তাহে আসেনই না।
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রধান ফটক খোলা থাকলেও মূল দরজায় তালা ঝুলছে। ভবনের সামনে আগাছা আর আবর্জনার স্তূপ। সীমানার ভেতরে গরু-ছাগল অবাধে বিচরণ করছে। দেয়ালের বিবর্ণ রঙ ও চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে মনে হয়েছে, দীর্ঘদিনের অবহেলায় এটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























