শরীর সুস্থ রাখতে সূর্যের আলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোদে থাকার মাধ্যমে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয়, যা হাড় ও পেশি শক্তিশালী করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। তবে, অতিরিক্ত সূর্যালোক ত্বক ও চোখের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা রোদ পুরোপুরি এড়িয়ে না গিয়ে পরিমিতভাবে গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বকে ভিটামিন ডি সংশ্লেষিত হয়। তবে, সবার শরীরে একই হারে এই ভিটামিন তৈরি হয় না। বয়স, ত্বকের রং, ভৌগোলিক অবস্থান এবং ঋতুভেদে এর পরিমাণে পার্থক্য দেখা যায়। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেবেকা মেসনের মতে, ভিটামিন ডির জন্য দীর্ঘ সময় রোদে থাকার প্রয়োজন নেই; অল্প সময়ের সূর্যালোকই অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট হতে পারে। তুলনামূলকভাবে গাঢ় ত্বকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা বেশি থাকায় ভিটামিন ডি তৈরিতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।
সূর্যের আলো শুধু ভিটামিন ডি তৈরিতেই নয়, ঘুম এবং মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সকালের প্রাকৃতিক আলো শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত আলো না পেলে ঘুমের ব্যাঘাতের পাশাপাশি মন খারাপ বা অবসাদের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
প্রতিদিন কতক্ষণ রোদে থাকা উচিত, এর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। কারণ অঞ্চল, ঋতু ও আবহাওয়ার সঙ্গে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা বা ইউভি ইনডেক্স পরিবর্তিত হয়। তাই শুধু সময়ের হিসাব না করে সূর্যের তীব্রতাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ফর্সা বা সংবেদনশীল ত্বকের মানুষদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। সূর্যের তেজ বেশি থাকলে ত্বক ঢেকে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
অতিরিক্ত রোদে শরীর বেশি ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে না। বরং দীর্ঘ সময় সূর্যের আলোতে থাকলে ত্বকে রোদে পোড়া, অকাল বার্ধক্যের ছাপ এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। চোখও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তীব্র রোদে বাইরে বের হলে সুরক্ষামূলক সানগ্লাস ব্যবহার করা শ্রেয়। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন রোদ থেকে দূরে থাকলেও ভিটামিন ডির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাবে হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে, সূর্যালোকের পাশাপাশি খাবার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট থেকেও ভিটামিন ডির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। অবশ্য, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ অতিরিক্ত মাত্রা কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























