মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

সুনামগঞ্জে ১৭ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, ভোগান্তিতে গ্রাহক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে সুনামগঞ্জে দৈনিক ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জেলার গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরমে পৌঁছেছে। এতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকাজসহ বিভিন্ন খাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের এই ভোগান্তির কারণে ভুক্তভোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, এমনকি ছাতকের জাউয়া বাজার এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভও করেছেন এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ না থাকা সত্ত্বেও মাস শেষে পুরো বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ভুতুড়ে বিলের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। তাহিরপুরের মশিউর রহমান জানান, রাতে বিদ্যুৎ আসে গভীর রাতে এবং আবার ভোরের আলো ফোটার আগেই চলে যায়। দিনের বেলায়ও বিদ্যুৎ থাকে অনিয়মিত। এই অবস্থায় গরমে ছেলে-মেয়েরা ঘুমাতে পারছে না, যা জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্য। সদর উপজেলার বানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল হক বলেন, ‘আজ সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। বাচ্চারা গরমে হাঁসফাঁস করছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী কারোই মনোযোগ থাকছে না। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষাক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ একইভাবে, ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক লাল মিয়া জানান, রাতে রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে না পারায় তার আয় কমে গেছে, যা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) তাপস কুমার পাইন জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে লোডশেডিং হচ্ছে এবং এটি একটি জাতীয় সমস্যা। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত এর সমাধান হবে। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমেদ বলেন, সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ১৪ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র সাড়ে ৮ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশের কম হওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের ঘোষণা: রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উদযাপন মাসব্যাপী

সুনামগঞ্জে ১৭ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, ভোগান্তিতে গ্রাহক

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে সুনামগঞ্জে দৈনিক ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জেলার গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরমে পৌঁছেছে। এতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকাজসহ বিভিন্ন খাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের এই ভোগান্তির কারণে ভুক্তভোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, এমনকি ছাতকের জাউয়া বাজার এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভও করেছেন এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ না থাকা সত্ত্বেও মাস শেষে পুরো বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ভুতুড়ে বিলের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। তাহিরপুরের মশিউর রহমান জানান, রাতে বিদ্যুৎ আসে গভীর রাতে এবং আবার ভোরের আলো ফোটার আগেই চলে যায়। দিনের বেলায়ও বিদ্যুৎ থাকে অনিয়মিত। এই অবস্থায় গরমে ছেলে-মেয়েরা ঘুমাতে পারছে না, যা জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্য। সদর উপজেলার বানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল হক বলেন, ‘আজ সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। বাচ্চারা গরমে হাঁসফাঁস করছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী কারোই মনোযোগ থাকছে না। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষাক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ একইভাবে, ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক লাল মিয়া জানান, রাতে রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে না পারায় তার আয় কমে গেছে, যা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) তাপস কুমার পাইন জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে লোডশেডিং হচ্ছে এবং এটি একটি জাতীয় সমস্যা। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত এর সমাধান হবে। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমেদ বলেন, সুনামগঞ্জে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ১৪ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র সাড়ে ৮ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশের কম হওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।