মানবস্বাস্থ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য ও পরিবেশকে একই সূত্রে গেঁথে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাটি দেশের উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ও চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব। বৃহস্পতিবার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে (এআইইউবি) আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই আহ্বান জানান। থার্ড ওয়ান হেলথ ইয়ুথ অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ, এআইইউবির সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব বলেন, প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে রোগের বিস্তার, পরিবেশ দূষণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল চ্যালেঞ্জগুলো কোনো একক খাতের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এই সংকটগুলো কাটিয়ে উঠতে চিকিৎসক, ভেটেরিনারিয়ান, কৃষিবিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দ্রুত নগরায়ন, অধিক জনঘনত্ব, পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। উদীয়মান সংক্রামক রোগের ৭৫ শতাংশেরও বেশি প্রাণী ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই মেডিকেল, নার্সিং, ফার্মেসি, মাইক্রোবায়োলজি, প্রাণিবিজ্ঞান, কৃষি, খাদ্যবিজ্ঞান এবং পরিবেশবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোর পাঠ্যক্রমে ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণার প্রতিফলন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, ইউজিসি সদস্য চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এআইইউবিতে ওয়ান হেলথ সেন্টার প্রতিষ্ঠার মতো উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই ধরনের কেন্দ্রগুলো তাদের লক্ষ্য পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব বলেন, বর্তমান সরকার তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশ পরিচালনা এবং জাতির উন্নয়নে তাদের কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে, তরুণদের চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করা, সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দক্ষ, নৈতিক ও উদ্ভাবনী মানবসম্পদ গড়ে তোলা ইউজিসির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, যা ফলাফলভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, সমন্বিত চিন্তা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
রিপোর্টারের নাম 



















