মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

রায়পুরায় গুলি করে হত্যার পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

এম আজিজুল ইসলাম, রায়পুরা (নরসিংদী): নরসিংদীর রায়পুরায় পূর্ববিরোধের জের ধরে মোমেন মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার পর প্রতিপক্ষ ফরিদ সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা নারী ও শিশুদেরও রেহাই দেয়নি। এমনকি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে মারধর ও লাথি মেরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

গত ২ আগস্ট সকালে উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের সওদাগরকান্দি এলাকার সরকারবাড়িতে মোমেন গ্রুপ ও পূর্বপাড়ার ফরিদ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষ হয়। এতে মোমেন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এই ঘটনায় পরদিন নিহতের ভাই আমিন মিয়া বাদী হয়ে ৬৬ জনের নাম উল্লেখ করে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এরপর থেকে কয়েক দিন ধরে মোমেন চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ফরিদ সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এলাকা ঘুরে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এই অভিযোগগুলো জানা গেছে।

ভুক্তভোগী সাহিদা আক্তার বলেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে রয়েছেন। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে নিত্য ব্যবহার্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। বাড়িতে কাউকে না পেয়ে তারা সবকিছু ভেঙে ফেলেছে। তিনি পায়ের স্যান্ডেল ছাড়া বাড়ি থেকে আর কিছুই নিয়ে আসতে পারেননি। হেপি নামে আরেক নারী অভিযোগ করেন, তিনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় কয়েকজন হঠাৎ ঘরে প্রবেশ করে। তারা নগদ টাকা ও মালামাল লুট করতে গেলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তাকে মারধর করে হাতে আঘাত করা হয়, যার ফলে তার হাত ভেঙে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, হামলার সময় আমজাদ মিয়াসহ বেশ কয়েকটি দোকান থেকে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করা হয়েছে। একটি অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে দুটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ছাগল, সোলার প্যানেল, ব্যাটারিসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়েছে বলে তারা জানান। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলায় ১৭১টি বসতঘর ও ১০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা দ্রুত হামলা-লুটপাট বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে বিকেল পর্যন্ত সওদাগরকান্…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিসের স্বস্তি? পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতি কমলেও আগুন জ্বলছে নিত্যপণ্যের বাজারে

রায়পুরায় গুলি করে হত্যার পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:১১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

এম আজিজুল ইসলাম, রায়পুরা (নরসিংদী): নরসিংদীর রায়পুরায় পূর্ববিরোধের জের ধরে মোমেন মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার পর প্রতিপক্ষ ফরিদ সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা নারী ও শিশুদেরও রেহাই দেয়নি। এমনকি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে মারধর ও লাথি মেরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

গত ২ আগস্ট সকালে উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের সওদাগরকান্দি এলাকার সরকারবাড়িতে মোমেন গ্রুপ ও পূর্বপাড়ার ফরিদ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষ হয়। এতে মোমেন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এই ঘটনায় পরদিন নিহতের ভাই আমিন মিয়া বাদী হয়ে ৬৬ জনের নাম উল্লেখ করে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এরপর থেকে কয়েক দিন ধরে মোমেন চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ফরিদ সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এলাকা ঘুরে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এই অভিযোগগুলো জানা গেছে।

ভুক্তভোগী সাহিদা আক্তার বলেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে রয়েছেন। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে নিত্য ব্যবহার্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। বাড়িতে কাউকে না পেয়ে তারা সবকিছু ভেঙে ফেলেছে। তিনি পায়ের স্যান্ডেল ছাড়া বাড়ি থেকে আর কিছুই নিয়ে আসতে পারেননি। হেপি নামে আরেক নারী অভিযোগ করেন, তিনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় কয়েকজন হঠাৎ ঘরে প্রবেশ করে। তারা নগদ টাকা ও মালামাল লুট করতে গেলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তাকে মারধর করে হাতে আঘাত করা হয়, যার ফলে তার হাত ভেঙে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, হামলার সময় আমজাদ মিয়াসহ বেশ কয়েকটি দোকান থেকে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করা হয়েছে। একটি অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে দুটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ছাগল, সোলার প্যানেল, ব্যাটারিসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়েছে বলে তারা জানান। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলায় ১৭১টি বসতঘর ও ১০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা দ্রুত হামলা-লুটপাট বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে বিকেল পর্যন্ত সওদাগরকান্…