মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

কাপ্তাই লেকে কচুরিপানার স্তূপে নৌ চলাচল স্থবির: পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের জেটিঘাট সংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার নৌপথে কচুরিপানার তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ায় নৌ চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ইঞ্জিনচালিত বোটসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে কখনো কখনো এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। এতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বোটচালক, যাত্রী এবং মাছ ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

কাপ্তাইয়ের অভ্যন্তরীণ নৌঘাট, বিএফডিসি প্লাটুন ঘাট ও এর আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কচুরিপানার স্তূপ জমেছে। এর ফলে অনেক নৌযান ও মাছবাহী বোট স্বাভাবিকভাবে ঘাটে ভিড়তে পারছে না। একইভাবে ঘাট থেকে বোট ছাড়ার সময়ও চালকদের অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে। বিলাইছড়িগামী যাত্রী সুজন তঞ্চঙ্গ্যা জানান, কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে বোট ছাড়ার পর সামনের প্রায় এক কিলোমিটার পথ কচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় এই সামান্য পথ পাড়ি দিতেই কখনো কখনো প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে।

বোটচালক মো. মাইন উদ্দীন ও মো. রুবেল জানান, বর্তমানে কাপ্তাই জেটিঘাটে নৌযান চলাচলের সবচেয়ে বড় বাধা কচুরিপানা। স্রোতের কারণে প্রতিনিয়ত ঘাট এলাকায় কচুরিপানা জমছে। এতে পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। এর ফলে প্রতিদিন বোটের পাখা (প্রপেলার) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অতিরিক্ত মেরামত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নবী হোসেন ও অর্থ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় সাধারণত কচুরিপানা জন্মায় না। বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল ও নানিয়ারচর এলাকার লেক থেকে স্রোতের টানে এসব কচুরিপানা ভেসে এসে জেটিঘাট এলাকায় জমা হয়। এতে মাছবাহী বোটগুলো ঘাটে আসতে এবং মাছ ওঠানামা করতে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

মৎস্য ব্যবসায়ী নেতারা আরও বলেন, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কর্ণফুলী নদীতে পানি প্রবাহিত হয়। এ সময় সৃষ্ট স্রোতের সঙ্গে উজান এলাকার কচুরিপানা ভেসে এসে কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় আটকে যায়। বিগত বছরগুলোতে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ বড় ট্রলারের মাধ্যমে কচুরিপানা পরিষ্কার করেছে। তারা এবারও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে লেক থেকে কচুরিপানা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিসের স্বস্তি? পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতি কমলেও আগুন জ্বলছে নিত্যপণ্যের বাজারে

কাপ্তাই লেকে কচুরিপানার স্তূপে নৌ চলাচল স্থবির: পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টা

আপডেট সময় : ০৪:১২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের জেটিঘাট সংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার নৌপথে কচুরিপানার তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ায় নৌ চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ইঞ্জিনচালিত বোটসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে কখনো কখনো এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। এতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বোটচালক, যাত্রী এবং মাছ ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

কাপ্তাইয়ের অভ্যন্তরীণ নৌঘাট, বিএফডিসি প্লাটুন ঘাট ও এর আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কচুরিপানার স্তূপ জমেছে। এর ফলে অনেক নৌযান ও মাছবাহী বোট স্বাভাবিকভাবে ঘাটে ভিড়তে পারছে না। একইভাবে ঘাট থেকে বোট ছাড়ার সময়ও চালকদের অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে। বিলাইছড়িগামী যাত্রী সুজন তঞ্চঙ্গ্যা জানান, কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে বোট ছাড়ার পর সামনের প্রায় এক কিলোমিটার পথ কচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় এই সামান্য পথ পাড়ি দিতেই কখনো কখনো প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে।

বোটচালক মো. মাইন উদ্দীন ও মো. রুবেল জানান, বর্তমানে কাপ্তাই জেটিঘাটে নৌযান চলাচলের সবচেয়ে বড় বাধা কচুরিপানা। স্রোতের কারণে প্রতিনিয়ত ঘাট এলাকায় কচুরিপানা জমছে। এতে পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। এর ফলে প্রতিদিন বোটের পাখা (প্রপেলার) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অতিরিক্ত মেরামত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নবী হোসেন ও অর্থ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় সাধারণত কচুরিপানা জন্মায় না। বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল ও নানিয়ারচর এলাকার লেক থেকে স্রোতের টানে এসব কচুরিপানা ভেসে এসে জেটিঘাট এলাকায় জমা হয়। এতে মাছবাহী বোটগুলো ঘাটে আসতে এবং মাছ ওঠানামা করতে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

মৎস্য ব্যবসায়ী নেতারা আরও বলেন, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কর্ণফুলী নদীতে পানি প্রবাহিত হয়। এ সময় সৃষ্ট স্রোতের সঙ্গে উজান এলাকার কচুরিপানা ভেসে এসে কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় আটকে যায়। বিগত বছরগুলোতে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ বড় ট্রলারের মাধ্যমে কচুরিপানা পরিষ্কার করেছে। তারা এবারও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে লেক থেকে কচুরিপানা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।