মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাস পাম্প স্থাপনের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সিএনজি চালকদের অবরোধ, যানজটে জনদুর্ভোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

নতুন গ্যাস পাম্প স্থাপন ও সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা। এর ফলে মহাসড়কের দুপাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয় এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহান।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে জামালপুর বিসিকের সামনে নতুন বাইপাস মোড়ে এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন চালকেরা। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতারের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

অবরোধ চলাকালে মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে অনেক যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষকে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে দেখা যায়। অবরোধ প্রত্যাহার করার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

সিএনজি চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জামালপুরে প্রায় তিন হাজার নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সিএনজিসহ জেলায় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার সিএনজি চলাচল করে। বিপুলসংখ্যক এসব যানবাহনের জন্য বর্তমানে জাবেদ ফিলিং স্টেশন নামে মাত্র একটি পাম্পে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

চালকদের অভিযোগ, একটি মাত্র পাম্পে গ্যাস নিতে গিয়ে প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। এতে দিনের বড় একটি সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আয়-রোজগারেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। অটোরিকশা চালক আজিজুল হক বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিনই আমাদের আয় নষ্ট হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যায় না। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতেই আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।’

আরেক চালক সাখাওয়াত হোসেন জানান, ইউএনও তাদের সমস্যার কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাই তার আশ্বাসের পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, চালকদের দাবিগুলো আমরা শুনেছি। গ্যাস সংকট নিরসন এবং নতুন পাম্প স্থাপনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে।

সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

Structural integrity paired with https://aboutowneroofing.ca ensures lasting home protection

গ্যাস পাম্প স্থাপনের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সিএনজি চালকদের অবরোধ, যানজটে জনদুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০৩:০৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

নতুন গ্যাস পাম্প স্থাপন ও সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা। এর ফলে মহাসড়কের দুপাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয় এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহান।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে জামালপুর বিসিকের সামনে নতুন বাইপাস মোড়ে এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন চালকেরা। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতারের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

অবরোধ চলাকালে মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে অনেক যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষকে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে দেখা যায়। অবরোধ প্রত্যাহার করার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

সিএনজি চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জামালপুরে প্রায় তিন হাজার নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সিএনজিসহ জেলায় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার সিএনজি চলাচল করে। বিপুলসংখ্যক এসব যানবাহনের জন্য বর্তমানে জাবেদ ফিলিং স্টেশন নামে মাত্র একটি পাম্পে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

চালকদের অভিযোগ, একটি মাত্র পাম্পে গ্যাস নিতে গিয়ে প্রতিদিন দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। এতে দিনের বড় একটি সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আয়-রোজগারেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। অটোরিকশা চালক আজিজুল হক বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিনই আমাদের আয় নষ্ট হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যায় না। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতেই আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।’

আরেক চালক সাখাওয়াত হোসেন জানান, ইউএনও তাদের সমস্যার কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাই তার আশ্বাসের পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, চালকদের দাবিগুলো আমরা শুনেছি। গ্যাস সংকট নিরসন এবং নতুন পাম্প স্থাপনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে।

সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে তারা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।