মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দিল্লিতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতা: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দিল্লিতে আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ। জানা গেছে, ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে দিল্লিতে ‘ইউরো-এশিয়া সম্পর্ক: শান্তি, সমৃদ্ধ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য অংশীদারত্ব’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী ২৯ আগস্ট দিল্লির ফরেন করেসপনডেন্ট ক্লাবে (সাউথ এশিয়া) এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই আয়োজনের নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা দলটির বেশ কয়েকজন নেতা। যদিও এই সেমিনারের সাথে ভারত সরকারের সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, তবে দেশটির একটি গোয়েন্দা সংস্থার পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে দিল্লির পক্ষ থেকে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে এই সেমিনার শেষ পর্যন্ত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে ইউরোপ ও এশিয়ার উন্নয়ন ও মানবাধিকারের কথা বলা হলেও, এর প্রকৃত উদ্দেশ্য বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক মহলে তাদের অবস্থান তুলে ধরা। বিশেষ করে দলটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেমিনারে পলাতক বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও কথিত মানবাধিকার কর্মীদের পাশাপাশি ভারতের কয়েকজন সাবেক কূটনীতিকের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

বক্তাদের তালিকায় ড. হাছান মাহমুদ ছাড়াও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ড. ওন্দ্রেজ দোস্তাল, লেখক ড. নুরুন নবী, সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরিন হোলজ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীনা সিক্রির নাম রয়েছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে যখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে, তখন নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন তৎপরতা কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি খাতে একচেটিয়া ব্যবস্থার অবসান: বেসরকারি বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে সরকার

দিল্লিতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতা: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি

আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দিল্লিতে আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ। জানা গেছে, ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে দিল্লিতে ‘ইউরো-এশিয়া সম্পর্ক: শান্তি, সমৃদ্ধ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য অংশীদারত্ব’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী ২৯ আগস্ট দিল্লির ফরেন করেসপনডেন্ট ক্লাবে (সাউথ এশিয়া) এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই আয়োজনের নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা দলটির বেশ কয়েকজন নেতা। যদিও এই সেমিনারের সাথে ভারত সরকারের সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, তবে দেশটির একটি গোয়েন্দা সংস্থার পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে দিল্লির পক্ষ থেকে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে এই সেমিনার শেষ পর্যন্ত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে ইউরোপ ও এশিয়ার উন্নয়ন ও মানবাধিকারের কথা বলা হলেও, এর প্রকৃত উদ্দেশ্য বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক মহলে তাদের অবস্থান তুলে ধরা। বিশেষ করে দলটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেমিনারে পলাতক বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও কথিত মানবাধিকার কর্মীদের পাশাপাশি ভারতের কয়েকজন সাবেক কূটনীতিকের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

বক্তাদের তালিকায় ড. হাছান মাহমুদ ছাড়াও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ড. ওন্দ্রেজ দোস্তাল, লেখক ড. নুরুন নবী, সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরিন হোলজ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীনা সিক্রির নাম রয়েছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে যখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে, তখন নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন তৎপরতা কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।