মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ট্রাম্প আমলের ইরান যুদ্ধের রেশ: যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে টান, চীন-রাশিয়ার কৌশলগত সুবিধা

বিগত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে সংঘটিত ইরান যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলোতে অস্ত্র সরবরাহ পিছিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা যেমন চাপের মুখে পড়েছে, তেমনি রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাতের ক্ষেত্রে নতুন করে হিসাব কষার সুযোগ পাচ্ছে।

সিনিয়র মার্কিন ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানে হামলা এবং পাল্টা হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ উচ্চমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এসব অস্ত্রের অনেকগুলো তৈরিতে জটিল ও নির্ভুল প্রযুক্তি প্রয়োজন হয় এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে এই অস্ত্রভাণ্ডার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় উদ্বেগ ছিল প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত। সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সেই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ১ হাজার ৭০০টিরও কম। উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে দুই বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন অস্ত্রভাণ্ডারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে—এমন প্রত্যাশা থেকে ট্রাম্প অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পরও যুদ্ধের অবসান ঘটেনি, বরং দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। এর ফলস্বরূপ, ইরান যুদ্ধের জন্য ইউরোপ ও এশিয়া থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নিতে হয়েছিল, যা ইউরোপ ও এশিয়ায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাংক পরিচালকদের দুই বছরের মেয়াদসীমা তুলে নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ট্রাম্প আমলের ইরান যুদ্ধের রেশ: যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে টান, চীন-রাশিয়ার কৌশলগত সুবিধা

আপডেট সময় : ১০:১১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বিগত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে সংঘটিত ইরান যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলোতে অস্ত্র সরবরাহ পিছিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা যেমন চাপের মুখে পড়েছে, তেমনি রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাতের ক্ষেত্রে নতুন করে হিসাব কষার সুযোগ পাচ্ছে।

সিনিয়র মার্কিন ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানে হামলা এবং পাল্টা হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ উচ্চমূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এসব অস্ত্রের অনেকগুলো তৈরিতে জটিল ও নির্ভুল প্রযুক্তি প্রয়োজন হয় এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে এই অস্ত্রভাণ্ডার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় উদ্বেগ ছিল প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত। সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সেই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ১ হাজার ৭০০টিরও কম। উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে দুই বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন অস্ত্রভাণ্ডারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে—এমন প্রত্যাশা থেকে ট্রাম্প অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পরও যুদ্ধের অবসান ঘটেনি, বরং দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। এর ফলস্বরূপ, ইরান যুদ্ধের জন্য ইউরোপ ও এশিয়া থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নিতে হয়েছিল, যা ইউরোপ ও এশিয়ায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করেছিল।