চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের উড়ির চর জুনিয়র হাইস্কুলে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ অকৃতকার্যের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যা স্থানীয় শিক্ষামহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিদ্যালয়টি থেকে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। অথচ বিগত বছরগুলোতে এই বিদ্যালয়টির পাসের হার তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক ছিল।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা এই ভয়াবহ ফল বিপর্যয়ের জন্য চরম আর্থিক সংকট, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়বিমুখতা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতাকে দায়ী করছেন। প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষকের কেউই বেতন পাচ্ছেন না, যার ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ফি দিয়েই মূলত তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হতো। কিন্তু অভিভাবকদের নিয়মিত ফি পরিশোধে অনীহার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বেতন না পেয়ে আট শিক্ষকের মধ্যে ইতোমধ্যে তিনজন বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। বাকিরা কোনোমতে দায়িত্ব পালন করলেও পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হাসান আক্ষেপ করে বলেন, “খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে স্কুলটা টিকিয়ে রেখেছি। যেখানে জীবন বাঁচানোই দায়, সেখানে লেখাপড়া তো বিলাসিতা।” তার এই মন্তব্য বিদ্যালয়ের করুণ বাস্তবতাকে তুলে ধরে।
জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার আগে নির্বাচনি পরীক্ষাতেও ১০ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা না থাকলেও, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘বিশেষ বিবেচনায়’ সবাইকে বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়। এর প্রভাব চূড়ান্ত ফলাফলেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
উড়ির চরের স্থানীয় বাসিন্দা ওমান রাসেল উল্লেখ করেন, উড়ির চরে পরীক্ষা কেন্দ্র না থাকায় শিক্ষার্থীদের এক মাস সন্দ্বীপে এসে থাকতে হয়। নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর পক্ষে এই দীর্ঘ সময়ের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের বাড়তি ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব। এটিও ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















