মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ছেলে ডাক্তার, মেয়ে নার্স; ৫৪ বছর বয়সে বাবার এসএসসি পাসের স্বপ্ন পূরণ

নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার পেড়াবাড়িয়ার বাসিন্দা আলী আকবর ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৩৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ছেলে-মেয়েদের ডাক্তার ও নার্স বানিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার পর নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের এই ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। তিনি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রাজশাহীর নওহাটা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হাই স্কুল থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

আলী আকবরের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বর্তমানে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। মেয়ে ফাতেমা খাতুন রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আলী আকবর জানান, সংসারের অভাব-অনটনের কারণে একসময় তাকে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছিল। সন্তানদের মানুষ করার জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিলেও লেখাপড়ার স্বপ্ন তাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে বাবার সঙ্গে কাজ শুরু করেন তিনি। পরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চাকরি করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালান। তারা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি পুনরায় পড়াশোনা শুরু করেন এবং আল্লাহর রহমতে প্রথমবারেই এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পেরেছেন।

বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পড়াশোনার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। সফল হতে হলে প্রয়োজন মনোবল, অধ্যবসায় ও নিয়মিত অনুশীলন।’ আলী আকবরের ছেলে ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বাবার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করার। আমাদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন। এখন তার সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। বাবাকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ভর্তি করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতাসীন যুবদল নেতা মাদক সেবনকালে আটক, দল থেকে বহিষ্কার ও কারাদণ্ড

ছেলে ডাক্তার, মেয়ে নার্স; ৫৪ বছর বয়সে বাবার এসএসসি পাসের স্বপ্ন পূরণ

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার পেড়াবাড়িয়ার বাসিন্দা আলী আকবর ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৩৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ছেলে-মেয়েদের ডাক্তার ও নার্স বানিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার পর নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের এই ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। তিনি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রাজশাহীর নওহাটা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হাই স্কুল থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

আলী আকবরের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বর্তমানে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। মেয়ে ফাতেমা খাতুন রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আলী আকবর জানান, সংসারের অভাব-অনটনের কারণে একসময় তাকে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছিল। সন্তানদের মানুষ করার জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিলেও লেখাপড়ার স্বপ্ন তাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে বাবার সঙ্গে কাজ শুরু করেন তিনি। পরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চাকরি করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালান। তারা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি পুনরায় পড়াশোনা শুরু করেন এবং আল্লাহর রহমতে প্রথমবারেই এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পেরেছেন।

বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পড়াশোনার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। সফল হতে হলে প্রয়োজন মনোবল, অধ্যবসায় ও নিয়মিত অনুশীলন।’ আলী আকবরের ছেলে ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বাবার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করার। আমাদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন। এখন তার সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। বাবাকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ভর্তি করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’