মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

জোহা: লোকসংস্কৃতির এক সর্বজনীন প্রতীক

লোকসাহিত্যের ইতিহাসে এমন কিছু চরিত্র রয়েছে, যারা নির্দিষ্ট সমাজ থেকে উদ্ভূত হয়েও সময়ের পরিক্রমায় বৃহত্তর মানবসমাজের সম্পদে পরিণত হয়। বাংলাদেশের নাসিরুদ্দিন হোজ্জা নামে পরিচিত জোহা এমনই এক চরিত্র। আরব-পারসিক-ইসলামি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে জন্ম নিলেও, শত শত বছর ধরে মৌখিকভাবে প্রচারিত, পরিবর্তিত ও পুনর্নির্মিত হতে হতে জোহা আজ বিশ্বসংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি শুধু আরবের একজন রসিক ব্যক্তি নন; বরং মানুষের হাসি, বুদ্ধি, প্রতিবাদ, সামাজিক সমালোচনা এবং ক্ষমতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের এক সর্বজনীন প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

জোহার ঐতিহাসিক পরিচয় নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও, প্রাচীন সাহিত্যকর্ম ও জীবনীমূলক রচনায় তার অস্তিত্বের উল্লেখ পাওয়া যায়। বালাজুরীর ‘আনসাবুল আশরাফ’-এ আবু মুসলিম খোরাসানির সঙ্গে জোহার সাক্ষাতের একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যেখানে জোহা তার সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। এই ঘটনা জোহার চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে—ক্ষমতাবানদের সামনে ভয় না পেয়ে অপ্রত্যাশিত কথা বলা এবং হাস্যরসের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে নিয়ে আসা।

জামাখশারীর আলমুস্তাকসা গ্রন্থেও জোহাকে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিধান ও জীবনী গ্রন্থে তার নাম দুজাইন ইবনে সাবিত, আবুল গুসন ইত্যাদি হিসেবেও পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক জোহা কে ছিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, তার নামে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক চরিত্রটি ক্রমেই শক্তিশালী হয়েছে। একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, জোহা সেই সীমা অতিক্রম করেছেন এবং বিভিন্ন স্থান ও কালে বারবার নতুন রূপে বিনির্মাণ হয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুসলিম বিশ্বের ঐতিহাসিক দিনপঞ্জি: বিজয়, চুক্তি ও জন্ম-মৃত্যু

জোহা: লোকসংস্কৃতির এক সর্বজনীন প্রতীক

আপডেট সময় : ০৩:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

লোকসাহিত্যের ইতিহাসে এমন কিছু চরিত্র রয়েছে, যারা নির্দিষ্ট সমাজ থেকে উদ্ভূত হয়েও সময়ের পরিক্রমায় বৃহত্তর মানবসমাজের সম্পদে পরিণত হয়। বাংলাদেশের নাসিরুদ্দিন হোজ্জা নামে পরিচিত জোহা এমনই এক চরিত্র। আরব-পারসিক-ইসলামি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে জন্ম নিলেও, শত শত বছর ধরে মৌখিকভাবে প্রচারিত, পরিবর্তিত ও পুনর্নির্মিত হতে হতে জোহা আজ বিশ্বসংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি শুধু আরবের একজন রসিক ব্যক্তি নন; বরং মানুষের হাসি, বুদ্ধি, প্রতিবাদ, সামাজিক সমালোচনা এবং ক্ষমতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের এক সর্বজনীন প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

জোহার ঐতিহাসিক পরিচয় নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও, প্রাচীন সাহিত্যকর্ম ও জীবনীমূলক রচনায় তার অস্তিত্বের উল্লেখ পাওয়া যায়। বালাজুরীর ‘আনসাবুল আশরাফ’-এ আবু মুসলিম খোরাসানির সঙ্গে জোহার সাক্ষাতের একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যেখানে জোহা তার সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। এই ঘটনা জোহার চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে—ক্ষমতাবানদের সামনে ভয় না পেয়ে অপ্রত্যাশিত কথা বলা এবং হাস্যরসের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে নিয়ে আসা।

জামাখশারীর আলমুস্তাকসা গ্রন্থেও জোহাকে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিধান ও জীবনী গ্রন্থে তার নাম দুজাইন ইবনে সাবিত, আবুল গুসন ইত্যাদি হিসেবেও পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক জোহা কে ছিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, তার নামে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক চরিত্রটি ক্রমেই শক্তিশালী হয়েছে। একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, জোহা সেই সীমা অতিক্রম করেছেন এবং বিভিন্ন স্থান ও কালে বারবার নতুন রূপে বিনির্মাণ হয়েছেন।