ধর্ম ও সাহিত্য আপাতদৃষ্টিতে দুটি ভিন্ন ধারা মনে হলেও ইতিহাসের দীর্ঘ পরিক্রমায় এরা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে। মানবসভ্যতার নৈতিকতা, দর্শন এবং আধ্যাত্মিক চেতনার মূলে এই দুই ধারার প্রভাব অপরিসীম। প্রাচীনকাল থেকেই সাহিত্য ও ধর্ম একই স্রোতে প্রবাহিত হয়ে মানুষের জীবনবোধকে সমৃদ্ধ করেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বের প্রাচীনতম সাহিত্যকর্মগুলোর অধিকাংশেরই মূল উৎস ছিল ধর্মীয় বিশ্বাস ও পৌরাণিক কাহিনি। গ্রিক সাহিত্যে হোমারের মহাকাব্য ‘ইলিয়াড’ ও ‘ওডিসি’ থেকে শুরু করে নাট্যসাহিত্যের উদ্ভব পর্যন্ত সবকিছুই ছিল দেব-দেবী কেন্দ্রিক ধর্মীয় উৎসবের অংশ। একইভাবে রোমান সাহিত্যেও কবি ভার্জিলের লেখনীতে ধর্মীয় নৈতিকতা ও ভাগ্যের প্রভাব সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
মধ্যযুগীয় ফরাসি ও ইংরেজি সাহিত্যেও ধর্মের এই আধিপত্য বজায় ছিল। সে সময়ের কবি ও সাহিত্যিকরা লেখনীকে কেবল শিল্প হিসেবে নয়, বরং আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ইংরেজি সাহিত্যের আদি নিদর্শন ‘বেউলফ’ থেকে শুরু করে পরবর্তীকালের বহু ধ্রুপদী সৃষ্টিতে ধর্মীয় ও নৈতিক ভাবধারার গভীর ছাপ বিদ্যমান। মূলত ধর্ম ও সাহিত্য মানুষের অজানাকে জানার কৌতূহল এবং জীবনের গূঢ় অর্থ অন্বেষণের পথে যুগপৎ আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে আসছে।
রিপোর্টারের নাম 

























