মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় ও গণসাহিত্যের স্বরূপ সন্ধান: আবুল মনসুর আহমদের তাত্ত্বিক দর্শন

বাংলাদেশের সাহিত্যের বিবর্তন ও বিকাশে জাতীয় সাহিত্য এবং গণসাহিত্যের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রখ্যাত চিন্তাবিদ আবুল মনসুর আহমদের মতে, একটি জাতির আত্মপরিচয় ও সংগ্রামকে ধারণ করেই জাতীয় সাহিত্য গড়ে ওঠে। তিনি মনে করেন, বঙ্কিমচন্দ্র থেকে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত সাহিত্যিকরা যে জাতীয় সাহিত্যের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে নজরুল ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো লেখকরা গণসাহিত্য সৃষ্টির স্তরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।

সাহিত্য কেবল শিল্প সৃষ্টি নয়, বরং এটি একটি জাতির সম্মিলিত চেতনার বহিঃপ্রকাশ। আহমদ শরীফের দর্শনেও সংস্কৃতির এই মানবিক অনুশীলনের কথা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তিনি মনে করেন, জীবন যখন সৌন্দর্যের অনুরাগে কোমল ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, তখনই তা প্রকৃত সংস্কৃতিতে রূপ নেয়। আর সাহিত্য হলো সেই সংস্কৃতির প্রধান বাহন, যা মানুষের প্রতি প্রীতি ও শুভেচ্ছা ছড়িয়ে দেয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জাতীয় সাহিত্য বলতে সেই সৃষ্টিসম্ভারকে বোঝায়, যা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের বীরত্বগাথাকে ধারণ করে। তৃণমূলের মানুষের জীবন, লোকঐতিহ্য এবং আমাদের নদী-প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে যে সাহিত্য নির্মিত হয়, তাই আমাদের জাতীয় পরিচয়কে বিশ্বদরবারে সংজ্ঞায়িত করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উজিরপুরে বিএনপি নেতার বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরস

জাতীয় ও গণসাহিত্যের স্বরূপ সন্ধান: আবুল মনসুর আহমদের তাত্ত্বিক দর্শন

আপডেট সময় : ০৬:০৫:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের সাহিত্যের বিবর্তন ও বিকাশে জাতীয় সাহিত্য এবং গণসাহিত্যের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রখ্যাত চিন্তাবিদ আবুল মনসুর আহমদের মতে, একটি জাতির আত্মপরিচয় ও সংগ্রামকে ধারণ করেই জাতীয় সাহিত্য গড়ে ওঠে। তিনি মনে করেন, বঙ্কিমচন্দ্র থেকে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত সাহিত্যিকরা যে জাতীয় সাহিত্যের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে নজরুল ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো লেখকরা গণসাহিত্য সৃষ্টির স্তরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।

সাহিত্য কেবল শিল্প সৃষ্টি নয়, বরং এটি একটি জাতির সম্মিলিত চেতনার বহিঃপ্রকাশ। আহমদ শরীফের দর্শনেও সংস্কৃতির এই মানবিক অনুশীলনের কথা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তিনি মনে করেন, জীবন যখন সৌন্দর্যের অনুরাগে কোমল ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, তখনই তা প্রকৃত সংস্কৃতিতে রূপ নেয়। আর সাহিত্য হলো সেই সংস্কৃতির প্রধান বাহন, যা মানুষের প্রতি প্রীতি ও শুভেচ্ছা ছড়িয়ে দেয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জাতীয় সাহিত্য বলতে সেই সৃষ্টিসম্ভারকে বোঝায়, যা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের বীরত্বগাথাকে ধারণ করে। তৃণমূলের মানুষের জীবন, লোকঐতিহ্য এবং আমাদের নদী-প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে যে সাহিত্য নির্মিত হয়, তাই আমাদের জাতীয় পরিচয়কে বিশ্বদরবারে সংজ্ঞায়িত করে।