তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ প্রতিরক্ষা জোটে আরো কয়েকটি দেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের লক্ষ্য হলো এই জোটকে তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজনে আরও দেশকে এর আওতায় আনা। এই চুক্তি অনুযায়ী, জোটের কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর সম্মিলিত হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
মিসর হতে পারে পরবর্তী সদস্য: সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে মিসরের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। হাকান ফিদান মিসরকে ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং কিছু কারিগরি বিষয় সমাধান হলেই কায়রো এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে, মিসর জোটের সামরিক বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সতর্ক রয়েছে এবং নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অক্ষুণ্ন রাখতে চায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি আগ্রহ: জোটের সম্ভাব্য সম্প্রসারণে কাতার ও কুয়েতের নামও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই দেশের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তাদের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি। কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সৌদি আরব ছাড়া অন্য সব জিসিসি সদস্য—কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই জোটে যোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেবে। এছাড়াও, আজারবাইজান, সিরিয়া ও জর্ডানও ভবিষ্যতে এই জোটে যুক্ত হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সম্ভাব্য প্রভাব: মিসর এবং কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ এই জোটে যোগ দিলে এর রাজনৈতিক প্রভাব, আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তবে, সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ এবং আঞ্চলিক বিরোধগুলো জোটটিকে একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ব্লকে পরিণত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























