মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নতজানু নয়, বাংলাদেশ সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন: শেখ হাসিনার দিল্লি সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার দিল্লিতে বসে অপতৎপরতা চালানোর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। নয়াদিল্লিতে ‘ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’র নামে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে ভার্চুয়ালি যুক্ত করে বক্তব্য দেওয়ানো হয়, যেখানে তাঁর পুত্র জয়কেও যুক্ত করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম অবমাননা আখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন পলাতক আসামিকে ভারতের মাটিতে বসে রাজনৈতিক বক্তব্য ও বিষোদগার করার সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দ্বিতীয়বার্ষিকীর দিনে শেখ হাসিনাকে দিয়ে এই বক্তব্য দেওয়ানো হয়। বাংলাদেশ সরকার এই তৎপরতাকে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান হিসেবে দেখছে। ঢাকা মনে করে, এই ঘটনা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি নতুন ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা চলছিল, তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিধিমালা অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের পূর্বে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে সতর্ক করে এই ধরনের তৎপরতা বন্ধের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ভারতীয় সরকার সেই অনুরোধ রক্ষা না করায় বাংলাদেশ সরকার গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। এছাড়াও, ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে একাধিকবার ফেরত চাওয়া সত্ত্বেও ভারতের কোনো সাড়া না পাওয়াকে ঢাকা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করে।

এই বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে একটি ‘বেসরকারি মিডিয়া সংস্থা’র উদ্যোগ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বাস্তবতার নিরিখে ভারত এর দায় এড়াতে পারে না। কারণ, শেখ হাসিনা সাধারণ কোনো পর্যটক নন, তিনি ভারতের রাষ্ট্রীয় হেফাজতে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিল্লিতে বসবাস করছেন। ভারত সরকারের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা নজরদারি এড়িয়ে তাঁর পক্ষে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে এভাবে যুক্ত হওয়া প্রশাসনিক অনুমতি বা ভারত সরকারের পরোক্ষ সবুজ সংকেত ছাড়া অসম্ভব। আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী, কোনো দেশ যখন অন্য দেশের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয়, তখন শর্ত থাকে যে, তিনি সেই দেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনতার রায় উপেক্ষা করে কেউ টিকতে পারেনি, ফ্যাসিবাদ রুখবে যুবসমাজ: জামায়াত আমির

নতজানু নয়, বাংলাদেশ সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন: শেখ হাসিনার দিল্লি সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় : ০২:২১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার দিল্লিতে বসে অপতৎপরতা চালানোর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। নয়াদিল্লিতে ‘ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’র নামে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে ভার্চুয়ালি যুক্ত করে বক্তব্য দেওয়ানো হয়, যেখানে তাঁর পুত্র জয়কেও যুক্ত করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম অবমাননা আখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন পলাতক আসামিকে ভারতের মাটিতে বসে রাজনৈতিক বক্তব্য ও বিষোদগার করার সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দ্বিতীয়বার্ষিকীর দিনে শেখ হাসিনাকে দিয়ে এই বক্তব্য দেওয়ানো হয়। বাংলাদেশ সরকার এই তৎপরতাকে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান হিসেবে দেখছে। ঢাকা মনে করে, এই ঘটনা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি নতুন ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা চলছিল, তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিধিমালা অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের পূর্বে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে সতর্ক করে এই ধরনের তৎপরতা বন্ধের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ভারতীয় সরকার সেই অনুরোধ রক্ষা না করায় বাংলাদেশ সরকার গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। এছাড়াও, ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে একাধিকবার ফেরত চাওয়া সত্ত্বেও ভারতের কোনো সাড়া না পাওয়াকে ঢাকা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করে।

এই বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে একটি ‘বেসরকারি মিডিয়া সংস্থা’র উদ্যোগ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বাস্তবতার নিরিখে ভারত এর দায় এড়াতে পারে না। কারণ, শেখ হাসিনা সাধারণ কোনো পর্যটক নন, তিনি ভারতের রাষ্ট্রীয় হেফাজতে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিল্লিতে বসবাস করছেন। ভারত সরকারের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা নজরদারি এড়িয়ে তাঁর পক্ষে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে এভাবে যুক্ত হওয়া প্রশাসনিক অনুমতি বা ভারত সরকারের পরোক্ষ সবুজ সংকেত ছাড়া অসম্ভব। আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী, কোনো দেশ যখন অন্য দেশের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয়, তখন শর্ত থাকে যে, তিনি সেই দেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।