এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা হাসান মাসুদ সম্প্রতি অভিনয় জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন এবং ধর্মকর্মকে জীবনের মূল উপজীব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তার এই জীবনধারার পরিবর্তন ও অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কারণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
সম্প্রতি তিনি পবিত্র হজ পালন করে মক্কা ও মদিনায় ৪১ দিন কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন। তবে এই আধ্যাত্মিক রূপান্তর হজে যাওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনটা হজের আগে থেকেই শুরু হয়েছিল, এখন বলতে পারেন আমি পুরোপুরি একজন বদলে যাওয়া মানুষ।’
সাক্ষাৎকারে নিজের বই পড়ার অধ্যায় নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন একসময়ের এই সংবাদকর্মী। তিনি জানান, একসময় তিনি প্রচণ্ড বই পড়তেন, যা পরবর্তীতে মানসিকভাবে ক্লান্তি নিয়ে আসে। তার ভাষ্য, ‘এত বেশি পড়েছিলাম যে শেষের দিকে নিজেকে যন্ত্রের মতো মনে হতো, ভেতরে কোনো আবেগ কাজ করত না।’ সেই অনুভূতি থেকেই নিজের কাছে থাকা প্রায় ১২০০ বই নীলক্ষেতে বিক্রি করে দেন তিনি। এরপর থেকে বই পড়ার অভ্যাস পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হাসান মাসুদ ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ক্যাপ্টেন পদ থেকে অবসর নেন। এরপর তিনি পুরোদমে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। কাজ করেছেন ‘দ্য নিউ নেশন’, ‘দ্য ডেইলি স্টার’ এবং ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিখ্যাত বিশ্বমাধ্যম ‘বিবিসি বাংলা’র সংবাদদাতা হিসেবে।
২০০৩ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। এরপর ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ চলচ্চিত্রসহ ‘হাউসফুল’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘৬৯’, ‘বাতাসের ঘর’ ও ‘রঙের দুনিয়া’র মতো বিপুল জনপ্রিয় অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে তিনি দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নেন। শুধু অভিনয় নয়, গান ও আবৃত্তিতেও তিনি নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। জীবনের নানান অধ্যায় পেরিয়ে বর্তমানে ধর্মকর্ম ও নিজের মতো করে নিভৃত জীবনযাপন করতেই বেশি পছন্দ করছেন হাসান মাসুদ।
রিপোর্টারের নাম 

























