২০২৬ সালের প্রথমার্ধে জার্মানির সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ঘাটতি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জার্মানির রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সংস্থা জার্মানি ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্ট (জিটিএআই)-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে জার্মানির রপ্তানি বাজার হিসেবে চীনের অবস্থান নবম স্থানে নেমে এসেছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত চীনে জার্মানির রপ্তানি ১২ শতাংশেরও বেশি কমে ৩৭ বিলিয়ন ইউরোর নিচে নেমে এসেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে চীনা কোম্পানিগুলোর ইউরোপীয় আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রবণতাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অথচ ২০২১ সালেও চীন জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ছিল, যখন মহামারীর প্রভাব সত্ত্বেও জার্মানি দেশটিতে ১০৪ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য বিক্রি করেছিল।
বর্তমানে জার্মানির উৎপাদন খাত মার্কিন শুল্ক এবং চীনা প্রতিযোগিতার জোরালো চাপের সম্মুখীন। এর ফলে ফক্সওয়াগেনের মতো শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, চীন জার্মানির কাছে আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে পণ্য বিক্রি করে চলেছে, যা বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
গত বছরের প্রথমার্ধে চীনের সঙ্গে জার্মানির বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৪০ বিলিয়ন ইউরো। তবে ২০২৬ সালের একই সময়ে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ইউরোতে এসে দাঁড়িয়েছে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে গভীর ফাটল সৃষ্টি করছে। এই সময়ে চীন থেকে জার্মানির আমদানি ৮ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। এর ফলে দুই দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৮ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জার্মানির মোট বাণিজ্যের চেয়ে প্রায় ৩ বিলিয়ন ইউরো বেশি।
জিটিএআই-এর তথ্যে আরও দেখা গেছে যে, ২০২৬ সালে অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মতো অনেক ছোট অর্থনীতির দেশগুলোও চীনের চেয়ে বেশি জার্মান পণ্য কিনেছে। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংরক্ষণবাদী শুল্ক নীতি চালু করার পর ২০২৫ সালে চীন জার্মানির শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
রিপোর্টারের নাম 
























