সময় যেন দ্রুত বয়ে যায়। গত বছর মারগেট বিচে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতি এখনও টাটকা, এরই মধ্যে শীতের বিরতির পর আবারও গ্রীষ্মের ক্ষণিকের স্বস্তি নিয়ে হাজির হয়েছে প্রকৃতি। এমন রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সমুদ্রের হাতছানি উপেক্ষা করা কঠিন। তাই এবার গন্তব্য ছিল দিগন্তবিস্তৃত সোনালি বালুচর ও বালিয়াড়ির জন্য বিখ্যাত ইংল্যান্ডের ক্যাম্বার স্যান্ডস সমুদ্রসৈকত।
এই আনন্দময় সফরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। আয়োজক ছিল ইসলামিক সোসাইটি অব কানাইঘাট ইউকে। দিন-তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলরা নিজেদের কাজ গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। মিডিয়া ও টি-শার্টের দায়িত্বে ছিলাম আমি, এবং বাংলাদেশ থেকে টি-শার্ট অর্ডার করে সময়মতো সব কাজ সম্পন্ন হয়।
রোদ-ঝলমলে সকালে ঐতিহাসিক আলতাব আলী পার্কে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ইস্ট লন্ডন মসজিদের ইমাম ও খতিব শায়খ আবুল হোসাইন খান উপস্থিত ছিলেন। সকালের নাশতা ও গ্রুপ ছবি তোলার পর দুটি বাসে মোট ৬৬ জনের বিশাল বহর নিয়ে আমরা ক্যাম্বার স্যান্ডসের উদ্দেশ্যে রওনা হই। বাসের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছিল বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ আর রকমারি চাষাবাদ, যার মাঝে ছোট ছোট ঘরগুলো ছিল বিশেষ আকর্ষণ।
পুরো যাত্রাপথে ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন ও প্রীতি আড্ডা। তেলাওয়াত, নাশীদ, গান, অভিনয়, আবৃত্তি এবং কৌতুকের সমন্বয়ে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। ইব্রাহীম আলী ভাই, হাফিজ সোহেল ভাই, রেজওয়ান ভাই, আবিদ ভাই, শাখাওয়াত ভাইদের পাশাপাশি নাজিফ, ইলিয়াস ও কাওসারের মনমাতানো উপস্থাপনা বাড়তি আমেজ যোগ করে। পাহাড়ি গ্রাম, খাঁজকাটা চাষের ক্ষেত, ঘন বন আর ভেড়ার পালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতেই প্রায় দুই ঘণ্টার পথ কখন শেষ হয়ে গেল, টেরই পাইনি।
সৈকতের কাছাকাছি নেমেই মন ছুঁয়ে যায় রোদ আর নির্মল বাতাস। বিশাল উন্মুক্ত স্থানে আমাদের পূর্বনির্ধারিত আয়োজনগুলো শুরু হয়, যার মধ্যে ছিল হাঁড়িভাঙা, বেলুন ফোটানো, মোরগ লড়াই ও ফুটবল ম্যাচ। সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরোটা সময় ছিল উচ্ছ্বসিত। অনেক পর্যটকও কৌতূহল নিয়ে দাঁড়িয়ে আমাদের আনন্দ উপভোগ করছিলেন।
খাবার ও নামাজ শেষ করে এবার সমুদ্রে নামার পালা।
রিপোর্টারের নাম 

























